• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

আয়কর বিভাগ : দুর্নীতির ২৩ উৎস চিহ্নিত

দুদকের অভিযান

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

আয়কর বিভাগে দুর্নীতির ২৩ উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সার্বিক দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক ২৩টি সুপারিশ করেছে। গতকাল দুদক সুপারিশ অনুমোদন করে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সারোয়ার মাহমুদের স্বাক্ষরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের কমিটির তৈরি সুপারিশ অনুমোদন দিয়েছে দুদক। দুদকের পরিচালক ও কমিটির প্রধান মির মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি আয়কর বিভাগে দুর্নীতির ক্ষেত্রে ২৩টি উৎস চিহ্নিত ও সার্বিকভাবে দুর্নীতি বন্ধে ২৩টি সুপারিশ করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, আয়কর বিভাগ এবং কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট সংক্রান্ত আইন, বিধি, পরিচালন পদ্ধতি, ট্যাক্স ও রাজস্ব ফাঁকির দিকসমূহ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক এবং দুর্নীতির যেসব কারণ রয়েছে তা উল্লেখপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিশন কর্তৃক প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক টিম বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে। এছাড়া আয়কর বিভাগ এবং কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি/রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাও করেছে কমিটি। সরেজমিনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং কমিশনের গোয়েন্দা উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে আয়কর বিভাগ এবং কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাটের দুর্নীতির উৎস/কারণ এবং তা প্রতিরোধে সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সিনিয়র সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবরে সুপারিশমালা প্রেরণের জন্য কমিশন কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আয়কর সংক্রান্ত দুদকের প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আয়কর বিভাগ তথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর আয়কর বিভাগ কর্তৃক আয়কর সংগ্রহ করা হয়েছে ৬৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশের কর জিডিপি অনুপাত মাত্র ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ১ শতাংশেরও কম মানুষ আয়কর পরিশোধ করেন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যাপক কর ফাঁকি সত্ত্বেও বিভিন্ন খাতে কর প্রণোদনা দিতে হয় ব্যাপক অঙ্কের অর্থ। কর ফাঁকি এবং মওকুফ বন্ধ করতে পারলে কর-জিডিপি অনুপাত আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা যেত, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৯শ কোটি টাকা। এ দেশের তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রায় সব কার্যক্রম এখনও সনাতন ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। করদাতাদের সেবা প্রদান ও আয়কর প্রদানে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ নেই বললেই চলে। বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর কারণেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও শুল্ক (কাস্টমস) বিভাগের মধ্যে পারস্পারিক সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। কর ফাঁকি রোধ করতে এই তিন বিভাগের সমন্বয়ে অভিন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজস্ব বোর্ড এখনও দাঁড়াতে পারেনি। দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার অত্যন্ত জরুরি