• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

৯০তম জন্মদিনে সংবর্ধনায় সংস্কৃতিমন্ত্রী

আহমদ রফিক অনন্য প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

image

জন্মদিন উপলক্ষে ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে সংবর্ধনা -সংবাদ

আহমদ রফিক বহু গুণে গুণান্বিত অনন্য প্রতিভাধর এক ব্যক্তিত্ব। যিনি ইতিহাস-সাহিত্য-সংস্কৃতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায়। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ভাষা সংগ্রামী, রবীন্দ্র-গবেষক ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিকের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অন্যপ্রকাশ ও অনিন্দ্য প্রকাশ। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আজ তার (আহমদ রফিক) ৯০তম জন্মদিন। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং একই সঙ্গে আমরা যেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তার জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে পারি সেই কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, তিনি একজীবনে অনেক বই লিখেছেন। উপমহাদেশে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এত বই আর কেউ লেখেননি যত বই লিখেছেন আহমদ রফিক। রবীন্দ্রনাথের ওপর তিনি ২০ এর অধিক বই লিখেছেন। আমি মনে করি কেবল উপমহাদেশেই নয় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পৃথিবীর কোন গবেষক বা লেখকই এত সংখ্যক বই লেখননি। শুধু রবীন্দ্রনাথই নয়, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিকসহ নানা বিষয় নিয়ে ভেবেছেন। লেখালেখি করেছে। আমি তার শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এ সময় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, আমার জন্মদিনে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিলেন আমি জানি না আমি তার যোগ্য কি না। তবে আপনাদের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান ইলিয়াস, কবি মুনির সিরাজ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, শিল্পী হাশেম খান, সুজন বড়ুয়া, অনিন্দ্য প্রকাশনার পরিচালক আফজাল হোসেন, অন্যপ্রকাশের প্রধান মাজহারুল ইসলাম, পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক, জানেসার ওসমান ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও সংরক্ষণের মাহবুবুর রহমান, লেখিকা সুরমা জাহের, নাট্যকার পিজুস বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখক ও কবি পিয়াস মজিদ কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি তারেক সুজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। ৫২-র ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে তার প্রথম গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। বাংলা একাডেমির ফেলো, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য, ‘রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র’ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, একুশে পরিষদ ও ভাষা আন্দোলন জাদুঘরের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আহমদ রফিক। সাহিত্যে গবেষণামূলক রচনার জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিল্পসাহিত্য পুরস্কার, ২০১৩ সালে রবীন্দ্র পদক লাভ করেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে তিনি কলকাতা থেকে রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য উপাধি পান।