• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

বইমেলার ১০ম দিন শেষ

আসছে নতুন বই দামে আপত্তি পাঠকের

সংবাদ :
  • যোবায়ের মুরাদ

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

একে একে পার হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১০টি দিন। গতকালও বইমেলা ছিল পাঠকমুখর। সরস্বতীর পূজায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুইদিন ছুটি থাকায় মেলায় ছিল ভিন্ন আমেজ। বইয়ের বিক্রিও ছিল ভালো। এবারের মেলার আয়োজন, প্যাভিলিয়ন, স্টলের নান্দনিকতা, সৌন্দর্যসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে পাঠক-প্রকাশক সবাই খুশি। তবে এতো কিছুর মধ্যেও অভিযোগ রয়েছে পাঠকের। আর সেটি হলো বইয়ের দাম নিয়ে। পাঠকের অভিযোগ মেলার সার্বিক বিষয় সুন্দর হলেও মেলার আসল আয়োজন যে বইয়ের জন্য সেটির দাম একটু বেশি। মেলার প্যাভিলিয়ন, স্টল ঘুরে বেড়ানো পাঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তারা একটু কম দামে ভালো বই কিনতে চাইছেন। তবে বেশিরভাগ পাঠকই জানালেন দাম একটু বেশি। আর তাই এ স্টল ও স্টল করে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে প্রকাশকরা বলছেন বর্তমান বাস্তবতায় এর চেয়ে দাম কম রাখা তাদের জন্যও কষ্টকর। মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছেন কোন স্টল বাড়তি দাম নিলে পাঠকরাই সে প্রকাশনাকে এড়িয়ে চলবে। ফলে তারা আলাদা করে দাম বেঁধে দেয়ার পক্ষে নন।

যুক্ত থেকে বেরিয়েছে খন্দকার স্বনন শাহরিয়ারের উপন্যাস ‘নক্ষত্রের নিচে’। ৩৫৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ৯’শ টাকা। ঘাসফুল থেকে বেরিয়েছে পারভেজ শিহাবের কাব্যগ্রন্থ ‘পাখির দুঃখ মেঘের মনে’। ৬৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ১৮০ টাকা। পেন্সিল পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছে মাহরীন ফেরদৌসের কাব্যগ্রন্থ ‘কাঁচবন্দি সিম্ফনি’। ৮৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ২’শ টাকা। উড়কি প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে আহমেদ নকীবের কাব্যগ্রন্থ ‘গান গাবো বিজয়নগরে’। ১৩২ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য লেখা রয়েছে ৫’শ টাকা। বেহুলা বাংলা থেকে বেরিয়েছে মাহফুজা অনন্যা’র কাব্যগ্রন্থ ‘কামার্ত নগরের কামিজ’। ৭২ পৃষ্ঠার এ বইটির মূলা লেখা রয়েছে ২শ’ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেলায় আগত একজন পাঠক রূপা হায়দার বলেন, মেলার সবকিছ্ইু সুন্দর। মেলার আয়োজন নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু বইয়ের দামটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। এক দেড়শ’পৃষ্ঠার বইয়ের দাম চায় দুই থেকে তিনশ’ টাকা। এটা একটু বেশিই। আবার ভালো লেখকদের বইয়ের দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। চাহিদা সম্পন্ন বইয়ের দামটাই বেশি।

বইয়ের দামের বিষয়ে অনুপম প্রকাশনীর মোহাম্মদ শাহীন জানান, গত বছরের ২২শ’ টাকা দামের কাগজ এবার তিন হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। সুতরাং এদিকটি হিসাব করলেই তো দাম বৃদ্ধির বিষয়টি চলে আসে। লাভ করতে না পারলে আমরা ব্যবসা করব কী করে। এভাবেই দাম বৃদ্ধির কারণ জানিয়েছেন আরও অনেক প্রকাশক।

অন্যদিকে বিদ্যা প্রকাশের কর্ণধার প্রিয় জানান, বইয়ের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ কাগজের দাম। এর বাইরে লেখক সম্মানীসহ প্রস্তুতি ব্যয় বেড়ে গেছে বলেই দাম বাড়াতে হয়েছে।

বইয়ের দাম বেশি থাকার কথা স্বীকার করেছেন উড়কি প্রকশনার বিক্রয়কর্মীরা। তারা বলেন, আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইয়ের লেখার মান ভালো, বইগুলো নব্বই দশকের। সেগুলো আমার পুনরায় প্রকাশ করেছি। তাই দাম বেশি নিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাইলে বাংলা একাডেমির পরিচালক এবং মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ সংবাদকে বলেন, যদি কোন প্রকাশনা দাম বেশি রাখে তবে পাঠকই তাদের বর্জন করবে। এ বিষয়ে আলাদা করে ব্যবস্থা নেয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।

লেখক বলছি কর্ণার : প্রথমবারের মতো এ বছর ভালো মানের ৫জন লেখককে ২০ মিনিট করে নিজের বই নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেক পাড়ে ‘লেখক বলছি’ কর্ণারের এ আয়োজনে গতকাল নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ কবি অসীম সাহা (নির্বাচিত কবিতা), কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন (কবিতা সংগ্রহ), শিশুসাহিত্যিক মীম নোশিন নাওয়াল খান (টুপিটুন), কবি ও কথাসাহিত্যিক মাজহার সরকার নেমকহারাম), কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন (বাংলাদেশের গল্প)।

মোড়ক উন্মোচন : গত বছরের মতো এবারও মেলায় রয়েছে মোড়ক উন্মোচন কর্ণার। প্রতিদিনই অনেক বই আসলেও মোড়ক উন্মোচন করান গুটি কয়েক লেখক। তবে যারা এ কর্ণারে এসে মোড়ক উন্মোচন করাচ্ছেন তাদের বক্তব্য শুনে অনেক পাঠক আগ্রহী হচ্ছেন সে সব বই কিনতে। আর এ কারণে মোড়ক উন্মোচনের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। গতকাল রোববারের ১১টিসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৫১ টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

মূল মঞ্চের আয়োজন : বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কথাশিল্পী ‘অমিয়ভূষণ মজুমদার : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহীবুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোসেন উদ্দীন হোসেন, মাহবুব সাদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং সঞ্জীব পুরোহিত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর মাসরুর জামান রনি এবং লাবণ্য শিল্পী। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলম দেওয়ান, রণজিত দাস বাউল, মমতা দাসী বাউল, লতিফ শাহ এবং মো. আনোয়ার হোসেন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মো. খোকন (বাঁশি), মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল), নওফেল বাদশা (দোতারা)।

আজকের আয়োজন : আজ ১১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।