• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

তিন খুনের আসামি

আলাউদ্দিন বাহিনীর হাতে জিম্মি পুরান ঢাকাবাসী

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

একাধিক হত্যা মামলার আসামি সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। বিএনপির সাবেক এমপি ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি প্রয়াত নাসিরউদ্দীন আহম্মেদ পিন্টুর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলাউদ্দিন ভোল পাল্টে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। পুরান ঢাকার হাজারীবাগ থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে আলাউদ্দিন ও তার বাহিনী নতুন এক আতঙ্ক হয়ে উঠেছে জনমনে। আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বজন হত্যার অভিযোগ তুলে যেসব পরিবার মামলা করেছে, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। বিএনপির আমলে পুরান ঢাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আলোচনায় থাকা আলাউদ্দিন ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে এখন এসব অপকর্ম করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

হাজারীবাগ থানার ওসি মো. ইকরাম আলী মিয়া সংবাদকে জানান, আলাউদ্দিনকে তারা খুঁজছেন গ্রেফতার করার জন্য। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় বেশকিছু মামলা রয়েছে। অতীতে আলাউদ্দিন বিএনপি করত। বিএনপি আমলে জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। সে আত্মগোপনে রয়েছে। নতুন করে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অভিযোগ কেউ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, আলাউদ্দিনের বাহিনী এখন এলাকায় মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, জিম্মি করে অর্থ আদায় করা, দখল করা- সবই করছে। ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলেও আলাউদ্দিন ও তার বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। মোহাম্মদপুর থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কোন জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে গেলে আলাউদ্দিনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব হয় না। এসব এলাকায় কেউ স্থাপনা তুলতে গেলে আলাউদ্দিনকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। কেউ যদি দিতে না চান, তাহলে বাহিনী পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া, গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এমনকি ধরে নিয়ে হত্যার হুমকিও দেয় তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ ও খুনসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। হাজারীবাগের ট্যানারি, গণকটুলি, সেকশন ঢাল, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বস্তি, সালাম সরদার রোড সংলগ্ন বালুর মাঠ বস্তি, বউবাজার বস্তি, রায়েরবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে হাজারীবাগের জসিমকে জনসমক্ষে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলাউদ্দিন জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এই ঘটনায় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। এর নম্বর ৩২(৭)২০১৩। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। হাজারীবাগের আরেক ব্যক্তি ওসমান গণিকে আলাউদ্দিন ২০০২ সালে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ৯(৮)২০০২। এ মামলাটিও বিচারাধীন। চাঁদাবাজিসহ জমি দখল নিয়ে ২০১৬ সালে আলাউদ্দিনের নামে হাজারীবাগ থানায় দুটি মামলা করা হয়। এর নম্বর ৩(৪) ২০১৬ ও ৪(৪)২০১৬।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দিন যতই যাচ্ছে, আলাউদ্দিন ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেশী এক বাড়িতে হামলা চালায় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা। সেখানে এক বছরের এক শিশুও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ওই ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। এর নম্বর ১৯(১২)২০১৭। আলাউদ্দিনের খুন-জখম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যারাই মামলা করেছেন, তারা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন। ওই পরিবারগুলোকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা। মোহাম্মদপুর থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জমি বা বাড়ি কেউ বিক্রি করতে গেলে আলাউদ্দিনের অনুমতি লাগে। এর প্রতিবাদ পর্যন্ত কেউ করতে পারছেন না।

আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে করা মামলার বাদীরা জানান, তাদের স্বজনদের আলাউদ্দিন হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে তারা এখন বিপাকে আছে। তাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না দিলে তাদেরও একই পরিণতি হবে- এমন ভয় দেখানো হচ্ছে।