• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

আর্থিক খাতে অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না : অর্থমন্ত্রী

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ০৩ এপ্রিল ২০১৯

আর্থিক খাতে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি পদ্মা ব্যাংকের প্রথম বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আগামীতে প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা যেহেতু ইয়াং তারা ভালোভাবে বাঁচবে বলে বিশ্বাস করি। কোন প্রতিষ্ঠান টাকার অভাবে বন্ধ হয় না, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় ম্যানেজমেন্টের জন্য। পদ্মার ম্যানেজমেন্ট ভালো করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুস্তাফা কামাল। তিনি বলেন, জীবনে প্রতিটি মানুষ এক বা দুটি সুযোগ পায় তেমনি দেশও সুযোগ পায়, এখন আমাদের সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। গত ৫ বছরে জিডিপিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগামীতে আর কেউ অর্থ হারাবে না এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবাই নিরাপদ থাকবে মন্তব্য করে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘প্লিজ ফর গড সেইক, আই উইল নেভার অ্যালাউ অ্যানি মিস ম্যানেজমেন্ট, ডিসটরশন।’

পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, রিকভারিতে মনোযোগ দিতে হবে, ঋণগুলোর ক্রেডিট কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোন বাহুল্য খরচ বাদ দিতে হবে পদ্মা ব্যাংকের জন্য। ব্যাংকের ইমেজ রক্ষার জন্য কোন চেক ডিসঅনার যেন না হয়, যদি তারল্য মজুদ না থাকে তাহলে অন্য ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই আমাদের প্রতিটি ব্যাংক ভালোভাবে চলবে। আমরা চাই না কোন ব্যাংক ফল করুক। তারা নতুন প্রডাক্ট নিয়ে আসবে এবং ফাইন্যান্সিয়াল নিডগুলো মেটাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসবে বলেও আশা করি।

ব্যাংকের অর্থ লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী ও মানুষ নিজের মনে করে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে যায়, এই প্রসেসটা চলতে দেয়া ঠিক হবে না। অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের ধরতে হবে।

বেশ কিছু মানি লন্ডারিং মামলা আমাদের কাছে আছে যেগুলোকে আমরা আইনের আওতায় আনব। ব্যাংক ব্যবস্থায় বড় বড় ঋণ গ্রহীতারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শোধ করে না। পরবর্তীতে ইন্টারেস্ট মাফ করার সুযোগ নেয়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, জনগণের অর্থ নিয়ে যারা অনর্থ করবে, এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে যাবেন বলে বিশ্বাস করি। অর্থ মন্ত্রণালয় একটি রাইট পার্সনের হাতে রয়েছে, জ্ঞান ও পা-িত্য তার রয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু লোকজন, যারা ফেরত দেবেন না বলে টাকা নেন তাদের বিষয়ে শক্ত কিছু করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সব সমস্যা থেকে বের হতে পেরেছি। খেলাপি ঋণ আদায়ের পাশাপাশি আমরা নতুন আমানত সংগ্রহ করেছি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সততা, দক্ষতা আর নিষ্ঠায় যেন কোন খাদ না থাকে। গত মাসেই পদ্মা ব্যাংক নামে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি এই ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক নামে।

ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের কারণে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সরকারের হস্তক্ষেপে ডুবতে থাকা এই ব্যাংকটির বেশিরভাগ শেয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও আইসিবি কিনে নেয়। পাশাপাশি পুরো ম্যানেজমেন্ট বদলে এখন নতুন নাম ও লোগো নিয়ে চলছে ব্যাংকটি। দেশব্যাপী ৫৭টি শাখা নিয়ে কাজ করছে পদ্মা ব্যাংক।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ব্যাংকের কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছি। নতুন ও আকর্ষণীয় প্রোডাক্ট লঞ্চ করাসহ ব্যাংকের নানা বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা আছে, সেগুলো বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, আইসিবি চেয়ারম্যান মুজিব উদ্দিন আহমেদ, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পটোয়ারী বক্তব্য রাখেন।