• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আমার সন্তানের গায়ে হাত তুললে সমউত্তর দেব : যবিপ্রবি উপাচার্য

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন যশোর শহরের মেসগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধর ও হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বলেছেন, “আমার সন্তানের গায়ে হাত তুলবেন না। আমি আর দু’একটি দিন দেখব। এরপরও যদি আমার কোনো সন্তানের গায়ে হাত তোলা হয়, মেসে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়Ñ তাহলে তার উৎকৃষ্ট ও সমউত্তর দেব। আমি শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হয়ে থাকতে চাই।” সোমবার যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগ আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নবীনবরণ উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ। শোভাযাত্রায় পলিথিনদূষণ, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ ছয়টি থিম স্থান পায়। কোনো বাদ্যযন্ত্র ও গান ছাড়া কীভাবে পরিবেশবান্ধব শোভাযাত্রা করা যায়, সেটিকেই তুলে ধরা হয় এতে।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভীতু, কাপুরুষ সন্তানের পিতা আমি হতে চাই না। আমি সাহসী সন্তানের পিতা হতে চাই। যে সন্তান জীবনে একবার মারা যাবে, যে সন্তান প্রতিদিন মারা যায়Ñ আমি সেই সন্তানের পিতা হতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘যবিপ্রবি তোমাদের কাছে আজ গুরুর অর্ঘ্য চাচ্ছে। তোমাদের যা আমরা দিয়েছি, এর প্রতিদান চাচ্ছি। যবিপ্রবিকে শহরের হায়েনাদের থেকে রক্ষা করতে হবে। অশুভ ও দুষ্টচক্রের রাজনীতি থেকে রক্ষা করতে হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজের পেছনে কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় যায় না। এটা তোমাদের বুঝতে হবে।’ ড. আনোয়ার বলেন, ‘যে রাজনীতি করতে চায়, সে রাজনীতি করবে। এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যে ছাত্র পড়াশোনা করতে চায়, তাকে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে হবে। তাকে জোর করে রাজনীতিতে নিয়ে আসা যাবে না। হিমালয় ডুবে যেতে পারে। কিন্তু প্রফেসর আনোয়ার হোসেন কখনো মাথা নত করবে না। এই ভাই, ওই ভাইয়ের কাছে গিয়ে যারা আমাকে বারবার হুমকি দিচ্ছে; আমার গাড়িতে বোমা, বাড়িতে বোমা মারবেন বলে হুমকি দিচ্ছেÑ আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বোমা খেতে খেতেই বড় হয়েছি। বোমার ভয় পাই না।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান যদি ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসতে চায়, তাহলে সে আসতে পারে। কিন্তু মেসে গিয়ে এক ভাই আরেক ভাইকে, এক বোন আরেক বোনকে হুমকি-ধমকি দেবে, জোর করে ধরে নিয়ে যাবে- এটা হতে দেয়া হবে না। এ বিশ^বিদ্যালয় একদিনের জন্যও বন্ধ হবে না। শহর থেকে কলেজভিত্তিক কতিপয় দুষ্কৃতকারী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করবে, তাও হতে দেয়া হবে না। এই যশোরের মাটিতে আমি মারা যাব, তবুও আমার সন্তানদের গায়ে হাত দিতে দেব না।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শহরে থাকতে যারা ভয় পাও, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে চলে আসতে পারো। যদি হলে জায়গা না হয়, তাহলে আমি আমার বাংলো ছেড়ে দেব। তোমাদের এটুকুই বলতে চাই, আমি তোমাদের পাশে আছি।’

পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইবুর রহমান মোল্যার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মজিদ, ডিনস কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

বিকেলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।