• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

চিনি অবিক্রীত

আখ চাষিদের আড়াইশ’ কোটি টাকা পাওনা দিচ্ছে না ১৫ চিনিকল

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন ১৫ চিনিকলের কাছে আখ চাষিদের ২২৫ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এই পাওনা পরিশোধ করছে না মিলগুলো। যে কারণে সরকার নিয়ন্ত্রিত এসব কলের প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছে চাষিরা। তবে কলগুলো বলছে উৎপাদিত চিনি বিক্রি করতে না পারায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৪র্থ বৈঠকে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হলে কৃষকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন কমিটির একাধিক সদস্য।

ক্ষোভ প্রকাশ এক সদস্য বলেন, চিনি বিক্রি হলো কি হলো না সেটি তো কৃষকদের দেখার বিষয় নয়। পরিশ্রম করে তারা পারিশ্রমিকের টাকা পাবে না কেন? কলগুলো নি¤œমানের চিনি উৎপাদন করছে অভিযোগ করে বেশ কয়েকজন সদস্য বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব সমস্যা উত্তরণে মানসম্মত চিনি উৎপাদনের সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে মন্ত্রণালয়ে কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, টাকার অভাবে চাষিদের কাছ থেকে কেনা আখের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না করপোরেশনের ১৫টি চিনিকল। চিনি কলগুলোর কাছে আখ চাষিদের আখের মূল্য বাবদ পাওনার পরিমাণ প্রায় ২২৫ কোটি টাকা। এদিকে উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলগুলো আরও বিপাকে পড়েছে। তাই কমিটি গুণগত মানসম্পন্ন চিনি উৎপাদনের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে কমিটি চিনির মিলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা যথা সময়ে পরিশোধ করারও সুপারিশ করেছে বলে জানান তিনি।

আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ইসমাত আরা সাদেক, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মো. মাহবুব উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. জিল্লুল হাকিম, মুহিবুর রহমান মানিক এবং বিশেষ আমন্ত্রণে মো. মজাহারুল হক প্রধান অংশ নেন। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোশনের অধীন সচল চিনিকলসমূহের বার্ষিক উৎপাদন, আয়-ব্যয়, লাভ-লোকসান ও ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীন সচল চিনিকলস মূহের বিদ্যমান অডিট আপত্তি সমূহের ওপর, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন, বিপণন এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনস্থ কেরু অ্যান্ড কোং মিল এবং রেনউইক, যজ্ঞেশ^র অ্যান্ড কোং মিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫৫০ দশমিক ৭২ লাখ টাকা এবং ১০৬ দশমিক ১১ লাখ টাকা লাভ করে। বৈঠকে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অডিট আপত্তিগুলোর বিষয়ে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট বাণিজিক অডিট আপত্তির সংখ্যা ১ হাজার ৬২৪টি, সাধারণ আপত্তির সংখ্যা ৬৫২টি, অগ্রিম আপত্তির সংখ্যা ৯১৭টি, খসড়া আপত্তির সংখ্যা ১০টি।