• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১

শাহজাহানপুরে

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে রেলওয়ে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল সকালে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে বিভাগ। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন রেলওয়ের ভূমি ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা এ উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি। এখানে কোন অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেয়া হবে না।’ এখানে তো দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এতো দিন কেন অভিযান চালান হয়নি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি মাত্র ৯ মাস। এই ৯ মাসে কাগজপত্র সব ঠিকঠাক করতে একটু সময় লেগেছে। এখন আর কোন সমস্য নয়। যদি কোন কিছু গভীরেও থাকে সেখান থেকে আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব। এ উচ্ছেদের পর আর অবৈধভাবে দখলের সুযোগ থাকবে না। কারণ আমরা নিয়মিত মনিটরিং করব। এখানে কোন অবৈধ স্থাপনা আমরা থাকতে দেব না।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে কলোনির জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবসহ হাজারও বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রেলওয়ের জায়গা দখল করে শাহজাহানপুরে হাজার হাজার বসতবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। বস্তির আকারে গড়ে তোলা এসব বাড়ি ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে কোটি টাকার ওপরে ভাড়া তোলা হয়। বছরের পর বছর ধরে রেলওয়ে কলোনির জায়গা দখল করে এসব অবৈধ স্থাপনা করা হলেও কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও এখান থেকে যে আয় হয় তার ভাগ পান। কলোনি অঞ্চলের অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে ‘বাংলদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’ নামে ক্লাব গড়ে তোলা হয়। এ ক্লাবে বখাটেদের আড্ডার পাশাপাশি জুয়ার আসরও বসত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এদিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় রেলওয়ের টিম বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে ঢুকে জুয়া খেলার টেবিল এবং কয়েক বান্ডেল তাস পান। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্লাবটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। অবশ্য তার আগে আশপাশে থাকা হাজারের অধিক অবৈধ বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, রেলওয়ের লোকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রভাবশালীরা এখানে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা খুবই ভালো উদ্যোগ। এখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েক হাজার বাড়ি আছে। এর কোথাও কোথাও অসামাজিক কাজও চলতো। আবার যে ক্লাব রয়েছে, ওখানে তো নিয়মিতই জুয়ার আসর বসতো। এর সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রভাবশালীরা।

মাসুরা বেগম নামের একজন বলেন, দু-তিন মাস ধরে এখানে উচ্ছেদ অভিযান চলানো হবে বলে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ধারণা ছিল এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে না। কারণ এসব অবৈধ স্থাপনা সবই প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে। তবে এখন দেখছি- সত্যিই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা খুবই ভালো কাজ হচ্ছে।