• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সঙ্গে নদী খনন চায় পবা

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও উদ্ধারকৃত জায়গা নদী ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে পবার মানববন্ধন -সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে জোরেসোরে নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের দৃঢ় পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। কিন্তু খুবই সামান্য স্থান বাদ দিলে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী নেতারা। তারা আরও বলেছেন, নদীর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর উদ্ধারকৃত জায়গা খনন করে নদীকে ফিরিয়ে না দিলে পুনঃদখলের সম্ভাবনা থেকে যায় এবং সংকুচিত নদী সংকুচিতই থেকে যায়। নদীর প্রশস্থতা ও গভীরতা বৃদ্ধি পায় না অর্থাৎ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যই অবাস্তবায়িত থাকে।

গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-সহ অন্য সমমনা সংগঠনের উদ্যোগে ‘নদী বাঁচাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়; উদ্ধারকৃত নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক মানববন্ধনে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীর জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বুড়িগঙ্গা তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। ভূমিদস্যুদের বেপরোয়া দখল, ভরাট এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ ও অব্যাহত আগ্রাসনের ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এ নদীগুলোর অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বারংবার উপেক্ষিত হয়েছে। ভূমিদস্যুরা প্রথমে আবর্জনা ফেলে কাঁচা, পরে সেমিপাকা ও পাকা স্থাপনার মাধ্যমে প্রথমে নদী তীর দখল করে। পরে ধীরে ধীরে দখলের সীমানা বাড়াতে থাকে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা অগণিত হলেও কোনটাই বিচ্ছিন্ন নয়। একে অন্যের সঙ্গে প্রাকৃতিক নিয়মে সুশৃঙ্খলভাবে সংযোজিত। সারা দেশে নদ-নদী জালের মতো বিস্তৃত হয়ে থাকা নদীগুলোর কোন একটি ভরাট ও দখল হয়ে সংকুচিত হলে শাখা-প্রশাখা নদীগুলোতেও এর প্রভাব পরে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। মানবকল্যানার্থে সৃষ্ট ও আমাদের জীবন-জীবিকার নিয়ামক এই নদীগুলোকে ধ্বংসের হাত থেকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে নদীর পাড়ে হাঁটার জায়গা, পার্ক ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা থাকা দরকার কিন্তু তা যেন কোনভাবেই নদীর সীমানার মধ্যে না পড়ে। নদীর নির্ধারিত সীমানার পাশে এরকম স্থাপনা করা যেতে পারে যাতে নদীর স্বাভাবিক জলধারা ও পরিবেশ বজায় থাকে।

বক্তারা বলেন, দেশের নদী ও জলাধারগুলোর অবৈধ দখল ও অবকাঠামো উচ্ছেদের পর আবার দখল ও অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এ ধরনের দখল-উচ্ছেদ-দখল কার্যক্রম লোক দেখানো কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। যা সরকারের অর্থ নষ্ট এবং নদী দখল উচ্ছেদের অভিপ্রায়কে বিঘিœত করছে। পরিকল্পিত ও স্থায়ীভাবে দখল উচ্ছেদের লক্ষ্যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, এই উচ্ছেদ পরবর্তী দখল কার্যক্রম অবসানের অন্যতম উপায়। পানির উৎস নদী ও জলাশয় রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে জনগণকেই। জনগণকেই হতে হবে নদীর রক্ষক। উদ্ধারকৃত নদীর জায়গা নদীকেই ফিরিয়ে দিতে হতে হবে বদ্ধপরিকর।

মানববন্ধন থেকে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- সরকার বর্তমানে নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করতে যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে তা আরও জোরদার ও বেগবান করা এবং সারা দেশব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা; নদী দখলকারীদের একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খরচ, নদীকে নদীর জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার খরচ ও নদী ভরাটমুক্ত করার খরচ বহন করতে হবে। সেইসঙ্গে নদী দখলকারীর দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ; রাজধানীর চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু নদীসহ অন্য সব নদী দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া; হাইকোর্টের নির্দেশনায় সিএস/আরএস রের্কড অনুসারে নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ী পিলার স্থাপন করা, যা নদীকে সংকুচিত করবে না বরং প্রশস্থ করবে; নদী দখল ও দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা; সরকার কর্তৃক নদীসমূহের ভূমি বরাদ্দ অনতিবিলম্বে বাতিল করা; নদীর নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে ম্যানুয়েল পদ্ধতি বা এসকেবেটরের মাধ্যমে খনন করে নদীর গতি প্রবাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা; সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকর্তৃক নদী ও জলাশয়ে শিল্প ও পয়ঃবর্জ্যসহ অন্য আবর্জনা ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।