• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ ২৩ রজব ১৪৪২

নোবেল জয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী মার্টিন বলেন

অনুসন্ধানী মন থেকে প্রশ্ন করার কোন বিকল্প নেই

সৃজনশীল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

নতুন কিছু করা ও জানার জন্য অনুসন্ধানী মন থেকে প্রশ্ন করার কোন বিকল্প নেই-মন্তব্য করে নোবেল বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী মার্টিন শ্যালফি বলেছেন, ‘সৃজনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান থেকে সব ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা প্রয়োজন। জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে অজনপ্রিয় বিষয়ে কাজ করাই ভালো।’

তিনি গতকাল ঢাকায় বসুন্ধরা এলাকায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকরি ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি’তে (এনএসইউ) আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-পরিচালক (গণসংযোগ) বেলাল আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদে মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জিইউ আহসান, ডিন প্রফেসর ড. আবদুর রব খান, ডিন প্রফেসর ড. আরশাদ এম চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আনোয়ার হক প্রমুখ।

এক প্রশ্নের জবাবে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঘটনাটি স্মরণ করে মার্টিন শ্যালফি বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়ার খবরে অনেকে উচ্ছ্বসিত হন। তবে আমার ক্ষেত্রে যে কী ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল তা স্বীকার করতে লজ্জাবোধ করি না। অনেক বন্ধু বলেছিল, আমি নোবেল পুরস্কার পাব। আর নির্বোধের মতো আমি রাত জেগে সে খবর জানতে অপেক্ষা করে বিফল হয়েছিলাম।’

ড. মার্টিন বলেন, ‘২০০৮ সালে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগের রাতেও আমার স্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেখো, মার্টিন। আমি জানি, ‘গ্রিন ফ্লুরেসেন্ট প্রোটিন (জিএফপি)’ এক চমৎকার আবিষ্কার। বিজ্ঞানকে এটি অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু সত্য হলো যে, এটি কোন দিন নোবেল পুরস্কার পাবে না। এসব বাদ দিয়ে ঘুমাও।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ফোন রান্নাঘরে ছিল। পরদিন ভোর ছয়টার কিছু সময় পর আমি ঘুম থেকে উঠলাম। আমার দুটি বিষয় উপলব্ধি হলো। প্রথমত, আমি পুরস্কার পাইনি। অন্য কেউ পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, দূরে কোথাও ফোন বাজার শব্দ শুনে ভেবেছি পাশের ফ্ল্যাটে হয়তো ফোন বাজছে। এরপর আমি কম্পিউটার চালু করে দেখলাম, আমিই পুরস্কার পেয়েছি। আর আমি ভীষণ বিস্মিত হলাম। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ আমি নোবেল কমিটির ওয়েবপেজে ঢুকে প্রায়ই দেখতাম, নামটা আছে না মুছে ফেলা হয়েছে। হ্যাঁ, এটি অনেক বড় একটি বিস্ময় ছিল। এখনও তা বিস্ময়ই রয়ে গেছে।’

বাংলাদেশি তরুণ প্রজšে§র জন্য পরামর্শ কী জানতে চাইলে মার্টিন শ্যালফি হাসতে হাসতে বলেন, ‘বুড়োদের সব কথা শুনতে নেই। আমার অভিজ্ঞতা বলে, মানুষ নিজের ক্ষেত্রে যা হয়েছে তার আলোকেই পরামর্শ দেয়। তারা বলে, এটি করা উচিত। কারণ তারা এটি করেছে। আর আমি বলব, পড়ালেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি বেশি পড়ালেখা করুন, গবেষণা করুন। তরুণরা সবাই জানে কী করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের উদ্যম, আগ্রহ কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়া। ’

মার্টিন শ্যালফি বলেন, ‘আমাকে অনুসরণ করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি কোন মডেলও নই। আপনাদের জীবনের সঙ্গে আমার জীবন মিলবে এমনটিও নয়। নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের চেয়েও অনেক বিজ্ঞানী আছেন যাদের অনেক বড় বড় আবিষ্কার আছে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরাই বিজ্ঞানীদের মধ্যে সেরা, তাদের চেয়ে বুদ্ধিমান এই সমাজে আর কেউ নেই- এমন ভাবনা মোটেও ঠিক নয়।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নিজস্ব সত্তায় জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নোবেল বিজয়ী মার্কিন রসায়ন বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মার্টিন শ্যালফি বলেন, ‘অন্যের উপদেশ শুনতে নেই। তাতে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। নিজের মৌলিক সত্তা বেশি গুরুত্ব দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করাই শ্রেয়। এভাবে এগিয়ে যেতে পারলে জীবনের কোন বাধাই দমিয়ে রাখতে পারবে না।’

২০০৮ সালে গ্রিন ফ্লোরসেন্ট প্রোটিন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন মার্কিন বিজ্ঞানী ড. মার্টিন শেলফি। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন।