• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

রংপুর কারমাইকেল

অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, রংপুর

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষকদের সাথে আশোভন আচরণের প্রতিবাদে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়ার অপসারণের দাবি করে আসছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে এ দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির তৃতীয় দিনে গতকাল দুপুরে অধ্যক্ষ রিকশায় এসে প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত তার কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে ফিরে যান।

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের পিছু পিছু বিক্ষোভ করতে থাকলে তিনি কলেজের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেও শিক্ষার্থীরা তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে।

এর আগে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। দুপুর ১টার দিকে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়া একটি রিকশায় চড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসলে তাকে দেখে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। অন্যদিকে পাশেই সামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান নেয়া শিক্ষকরাও হৈচৈ শুরু করে। অধ্যক্ষ প্রথমে রিকশা ভাড়া পরিশোধ করে রিকশা থেকে নেমে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় অধ্যক্ষ তড়িঘড়ি করে তার ব্রিফকেসটি সঙ্গে থাকা পিয়নকে দিয়ে দ্রুতবেগে হেঁঁটে মূল ভবনের পাশে একটি ভবনে গিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে সেখানে অবস্থানকারী কয়েকজন শিক্ষকের বাধায় ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতে না পেরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর আগে তিনি যখন হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন তখন তার পেছনে পেছনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে উপায় না দেখে বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করে দুপুর আড়াইটার দিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী জানান, অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে তারা যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি প্রদান করেছিল সেটা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে গতকাল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানো অব্যাহত থাকবে বলে জানান। তিনি বলেন, গতকাল সকালে আমরা শিক্ষকরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হবে সেই সাথে তাদের অবস্থান কর্মসূচিও চলবে।

অন্যদিকে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জানান, অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ মিয়া কলেজে যোগদানের পর থেকে আপ্যায়নের নামে ভুয়া ভাউচার করে অনেক টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন। সর্বপোরি তিনি শিক্ষকদের সাথে চরম অশালীন আচরণ করেন। তার ক্ষমতার দাপটে শিক্ষক কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর আপন ভায়রার দাপট দেখিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন কথায় কথায় চাকরি খাবার হুমকি দেন এমন অবস্থায় তার অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষমন্ত্রীর ভায়রার প্রভাব দেখালে কলেজে আসতাম না। বরং রাত ৮টা পর্যন্ত আমি কাজ করি বলে দাবি করে বলেন, বর্তমান উপাধ্যাক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের চাকরি আছে ৫ মাস আমার চাকরির মেয়াদ ৬ মাস তিনি অধ্যক্ষ হতে চেয়েছিলেন হতে পারেননি বলে দল ভারী করে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। তিনি কোন দুর্নীতি করেননি এ ব্যাপারে যে কোন তদন্ত হলে তা তিনি মেনে নেবেন বলে জানান। তবে শিক্ষকদের সাথে কারণে একটু আধটু রাগারাগি করি বলে স্বীকার করেন তিনি।