• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়ক

৬৫ কিমি সংস্কার কাজ সম্পন্ন

এখনও চার লেনে উন্নীত হয়নি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল প্রান্তের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার অংশের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে সড়ক অধিদফতর। ১২১ কোটি টাকার সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে বরিশাল সড়ক বিভাগ দেশের ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সম্প্রতি শেষ করেছে। প্রকল্পের আওতায় মহাড়কটির ভূরঘাটা প্রান্ত থেকে বরিশাল হয়ে লেবুখালির পায়রা সেতু পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কটি ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করা ছাড়াও পুরো রাস্তাটির ‘ওভার-লে’ করা হয়েছে। এছাড়াও ঐ মহাসড়কের মেজর জলিল (শিকারপুর সেতু) সেতু ও বীর শ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা সেতু) সেতুর প্রায় ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের ওপর ‘ডিবিএসটি’র আস্তরণ করে রাস্তাটিকে আরও টেকসই ও স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বৃহত্তর ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটির দুটি কালভার্ট নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও জাপান উন্নয়ন তহবিলের (জাইকা) আর্থিক সহায়তায় বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কে বেশ কিছু পুরনো সেতু বা কালর্ভাটের স্থলে ৪ লেনের নতুন সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ কাজও আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে সড়ক অধিদফতরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

দেশীয় তহবিলেই বরিশালÑঝালকাঠীÑপিরোজপুর- খুলনা মহাসড়কের বরিশাল-ঝালকাঠী অংশের কালিজিরা সেতু পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা এবং বরিশালÑগৌরনদী-কোটালীপাড়া-গোপালগঞ্জÑখুলনা মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাসসহ এর সংযোগ সড়কসমূহ প্রশস্ত এবং মান উন্নয়নের কাজও শেষ হয়েছে সম্প্রতি। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল সড়ক বিভাগ এসব সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে। ফলে সমগ্র খুলনা বিভাগ ছাড়াও মংলা এবং বেনাপোল ও ভোমড়া বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট নির্বিঘœ হয়েছে।

একসময়কার ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড কর্তক নির্মিত সড়কটি ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে উন্নয়ন করে কংক্রিট ঢালাই করা হয়। পরবর্তিতে বরিশালÑফরিদপুরÑঢাকা মহাসড়কটি সময়ের বিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে। মাত্র ৫ টন বহন ক্ষমতায় নির্মিত মহাসড়কটির ওপর এখন ৪০ টন পণ্যবাহী যানবাহনও চলছে। এর সঙ্গে ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় মহাসড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২০১৭ সালের নজিরবিহীন প্রবল বর্ষণে সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী এই জাতীয় মহাসড়কটির বেশিরভাগ অংশে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ফলে মহাসড়কটির বরিশাল অংশের সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে বরিশাল সড়ক বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা। সড়কটির সম্প্রসারণ কার্যক্রমসহ কার্পেটিং কাজেরও নকশা পরিবর্তন করতে হয়। ফলে মহাসড়কটির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ওভারলে’র পুরুত্ব বৃদ্ধিসহ ম্যকাডম এবং বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনতে গিয়ে ১০৪ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ১২১ কোটিতে উন্নীত হয়। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় তাদের পরিধির মধ্যে এই ব্যয় বৃদ্ধিসহ সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে এর উন্নয়ন কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।

গত বছরের শুরুতে ১০৪ কোটি টাকার দেশীয় তহবিলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী বরিশালÑফরিদপুরÑঢাকা জাতীয় মহাসড়কের বরিশালÑভূরঘাটা ও বরিশালÑলেবুখালী অংশের ৬০ কিলোমিটার সড়কের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ৪টি প্যাকেজে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেয়ার পরে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ শুরু হলেও মাঝ পথে এসে প্রবল বর্ষণে বরিশালÑভূরঘাটা অংশের ৪৮ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সম্প্রতি এই মহাসড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নসহ সম্প্রসারণের কাজ সমাপ্তির ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট নির্বিঘœ হয়েছে। এর ফলে পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগে আরও সুগম হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান। চুক্তি অনুযায়ী আগামী তিন বছর এ মহাসড়কের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে।

তবে এখনও বরিশালÑফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এ লক্ষে ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন হলেও কোন দাতা মেলেনি বলে জানা গেছে। এডিবি কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ বরিশাল বিভাগীয় সদর হয়ে ফরিদপুর পর্যন্ত পরিপূর্ণ নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

তবে প্রকল্পটি বাস্তায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি হুকুম দখলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক অনুমোদন করেছে। আগামী অর্থ বছরেই বরিশালÑফরিদপুর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য জমি হুকুম দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।