• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

চকবাজার ট্র্যাজেডি

হতাহতসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

image

চকবাজার অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন -সংবাদ

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকান্ডে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছে। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঐক্যবদ্ধ সব সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) সভাপতি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে চলতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কোন কোন পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছে। শুধু দায়ী ব্যবসায়ী বা ভবনের মালিকদের বিচার করতে হবে তা না, যেসব সংস্থার অবহেলার কারণে এই অব্যস্থাপনা চলছিল, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় হতাহত ব্যক্তিদের স্ত্রী, বাবা, মা, ভাই ও সন্তানরা বক্তব্য দেন। নিহত ব্যক্তিদের ছোট ছোট সন্তানও মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন, প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া, নিহতের সন্তানের চিকিৎসা খরচ বহন করা, নিহতের পরিবারের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরির ব্যবস্থা নেয়া, কেমিকেলসহ দাহ্য পদার্থ নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা নেয়া, রাজউকের নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ, সর্বোপরি জনসাধারণের নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত জীবনের সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নিহত মোহাম্মদ শাহীনের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে তার। এমন কোন আত্মীয়-স্বজন তার নেই, যারা তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারেন, পাশে দাঁড়াতে পারেন।

এদিকে ‘মাকে চাই, মায়ের কাছে যাব’। মাকে এভাবে খুঁজে ফেরে শিশু সানিন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের কোলে চড়ে আদর খাওয়াই ছিল শিশু সানিনের প্রধান চাওয়া। মা’ই ছিল তার সবচাইতে আপন বন্ধু। কিন্তু সেই মা ছাড়া মেয়েটা আজ অসহায় হয়ে গেছে। যার কথার ধ্বনিতে ঘর মেতে থাকতো। আজ সে প্রায় বাকরুদ্ধ। পাঁচ বছরের শিশু বিবি মরিয়ম সানিনকে নিয়ে এ কথাগুলো বলছিলেন বাবা জহিরুল হক সুমন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে মেয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলছিলেন তিনি।

জহিরুল হক বলেন, দুই মেয়ে নিয়ে আজ আমি দিশেহারা। ছোট মেয়ের বয়স এখন ৫ মাস। সে তো এখনও কিছু বোঝে না। ছোট মেয়েটা ওর খালাদের কাছে থাকে। মাঝে মাঝে কান্না করে উঠলে কিছু সময় পর চুপ হয়ে যায়। কিন্তু বড় মেয়ে মরিয়মকে (৫) কিছুতেই মানানো যায় না। ঘুমের ঘোরে বলে ওঠে মার কাছে যাব, মা কই বলে কান্না করতে থাকে। মাঝে মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায় মাকে খুঁজতে। বাধ্য হয়ে তখন ঘরে আটকে রাখতে হয়। কিভাবে বুঝাব ওর মা বেঁচে নেই। গত ২০ ফেব্রয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মরিয়মের মা (বিবি হালিমা শিলা) মারা যায়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে ছোট মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এখন পর্যন্ত আমার স্ত্রীর লাশ আমরা পাইনি। লাশ পেলেই মনকে শান্তনা দিতে পারতাম।