• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে হামলা

হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দোষীদের শাস্তিসহ ৮ দফা দাবি

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জে বাগদা ফার্মে সাওতালদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত, সাঁওতালপল্লীতে সন্ত্রাসী ঘটনায় নিহত-আহত ব্যক্তির পরিবারে ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবিগুলো হলো-রিক্যুইজিশন করা জমি খেসারতসহ ফেরত, পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সাঁওতালপল্লীতে সন্ত্রাসী ঘটনায় নিহত-আহত ব্যক্তির পরিবারে ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাঁওতালদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাঁওতালদের ঘরে অগ্নিসংযোগকারী চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার, লিজের নামে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং বাগদা ফার্মের উচ্ছেদকৃত সাঁওতাল ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তার জন্য সরকার ও সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসা।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আদিবাসী সাঁওতাল ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারের প্রতি বর্বরতা বিচার ও মানবিক সহায়তার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন অনেকে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী ফোরাম ও বেসরকারি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের প্রধান আইন উপদেষ্টা মো. নিজামুল হক, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ। স্থানীয় লোকদের মধ্যে সুফল হেমব্রম ও প্রিসিলা মুর্মু বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, জীবন ও সম্পদের ওপর যখন হুমকির সৃষ্টি হয়, তখনই মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়। সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার হারিয়েই বিভিন্ন সময় এ দেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। সাধ করে কেউ দেশ ত্যাগ করে না। সাঁওতালদের এলাকায় সরকারের স্থানীয় যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কি চান এসব মানুষ দেশ ত্যাগ করে চলে যান? তারা যদি না চান, এর প্রমাণ তো তাদের দিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রমাণ আমরা পাচ্ছি না। ওই হত্যার ঘটনার পর দুবছরের বেশি সময় হয়ে গেল, কিন্তু আজ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনই পাওয়া গেল না। এই ঘটনার বিচার হচ্ছে না কেন? প্রায় তিন বছর ধরে এই সমস্যা জিইয়ে রাখার কারণ কি? ভুক্তভোগী মানুষ দরিদ্র বলে, অসহায় বলে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে তো এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফিলিমন বাস্কে বলেন, রংপুর চিনিকল স্থাপনের জন্য আখ চাষ করতে ১৯৬২ সালে বাগদা ফার্ম এলাকার ১ হাজার ৮৪০ একর জমি রিক্যুইজিশন করা হয়। এসব ছিল স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালিদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি। চুক্তি অনুযায়ী, যে কাজের (আখ চাষ) জন্য জমি রিকুইজিশন করা হয়েছে, তা না করা হলে আগের মালিকদের জমি ক্ষতিপূরণসহ দিতে হবে। ২০০৪ সালে রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ শুরু করেন। জমি ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আন্দোলন শুরু করলে মিথ্যা মামলা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদের নামে হামলা করে। ওই ঘটনার পর হাইকোর্ট দুটি মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। কিন্তু আড়াই বছর হলেও তদন্তের কাজ শেষ হয়নি।