• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

২৩০ বছর পর

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার বাদাঘাটে স্থানান্তর

সংবাদ :
  • বিশেষ প্রতিনিধি

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

২৩০ বছর পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নগর থেকে শহরতলীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সকাল পৌনে ৭টা থেকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২ হাজার ৩০০ কয়েদি ও হাজতিকে বাদাঘাটে নবনির্মিত আধুনিক কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। গত ক’দিন থেকেই প্রশাসন এ নিয়ে একের পর এক বৈঠক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।

বিদায়ী বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন কারাগারটি উদ্বোধন করেন।

গতকাল প্রথমে মহিলা হাজতিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে বাদাঘাটে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে ৭টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে পুরাতন কারাগারের প্রধান ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দীদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

উদ্বোধনের পর থেকে নবনির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে অফিস করা শুরু করেন। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীর সংখ্যা ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত) ৫০০ এবং হাজতি হলেন ১ হাজার ৮০০ জন।

সিলেট নগরী থেকে ২৩০ বছর পর বাদাঘাটে স্থানান্তরিত হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। এর আগে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক চেষ্টায় মূলত কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেন।

নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় ১৭৮৯ সালে এলাকায় আসামের তৎকালীন কালেক্টর জন উইলিয়াম প্রায় ১ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২৪.৬৭ একর জমির ওপর ‘সিলেট কারাগার’ নামে এটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন আসাম রাজ্যের একমাত্র টিবি হাসপাতাল ছিল এ কারাগারেই। ১৯৯৭ সালে এ কারাগারকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। কারাগারের ধারণক্ষমতা ১২১০ জন হলেও এখানে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দী ছিলেন। এছাড়া ২০০ বছরের পুরনো হওয়ায় কারাগারটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এসব বিবেচনায় শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) সিলেট কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প পাস হয়। পরে প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যান প্রণয়ন করে সিলেট গণপূর্ত বিভাগ। তাদের অধীনেই নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়।