• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ৯ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

অবৈধ সম্পদ

সম্রাটের সহযোগী জাকিরের বিরুদ্ধে মামলা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অন্যতম সহযোগী জাকির হোসেনও শত কোটি টাকার মালিক। হোটেল বয় থেকে সম্রাটের ঘনিষ্ট হিসেবে জাকির হোসেনের উত্থান আলাদিনের চেরাগের মতোই। সম্রাটের নিজস্ব লোক হিসেবে ক্যাসিনো ব্যবসা দেখবাল করেই জাকির হোসেন নিজের ভাগ্য বদলান। দেশেই নামে বেনামে ৫ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুললেও জাকিরের আয়ের বেশিভাগ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করেছেন। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক জাকিরের বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য জানিয়ে মামলা দায়ের করেছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এর সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল এ মামলা দায়ের করেন। জাকিরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চলতি, সঞ্চয়ী ও এফডিআর হিসাবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা আছে জাকিরের। এ ছাড়া গত করবর্ষে (২০১৮-১৯) জাকির হোসেন তার আয়কর নথিতে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার সর্বমোট ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সম্পদ অর্জনে সুনির্দিষ্ট কোন বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এজাহারে আরও বলা হয়, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকে জাকিরের অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য দুদকের হাতে আছে। মামলার তদন্তের সময় প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো আমলে নেয়া হবে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাকিরের নামে কেনা সম্পদের তথ্য দুদকের হাতে থাকলেও এখন পর্যন্ত সে সংক্রান্ত নথি হাতে পায়নি সংস্থাটি। মামলার তদন্তের সময় বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়ে ওই সব সম্পদের মালিকানা বিষয়ে নিশ্চিত হবে সংস্থাটি। সূত্রটি বলছে, রাজধানীর পুরানা পল্টন ও বিজয়নগরে তার তিনটি বাড়ি আছে। রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ফ্ল্যাট আছে ২৮টি। গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আছে ১০০ কাঠা জমি। কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের যে ভবনটিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই ভবনের চতুর্থ তলাও জাকিরের কেনা। সেখানেই প্রথম সম্রাট তার অফিস করতেন। পরে ওই ভবনের অন্য তলাগুলোও দখলে নেয়া হয়।

সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ নিয়ে ১৪ টি মামলা করল দুদক। এর আগে ঠিকাদার জিকে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্লাবে সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ এবং যুবলীগের দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান এবং কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছে দুদক।