• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১

কুমিল্লা ও না’গঞ্জে

শিশু ও পোশাক শ্রমিক ধর্ষণের শিকার

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ধর্ষণ এখন দেশে এমন এক সামাজিক ব্যাধি কোন বাছবিচার নেই। কুমিল্লার দেবীদ্বারে সম্পর্কে চাচা এক নরপশু এক শিশু ছাত্রী ধর্ষণ করেছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক পোশাক কর্মী। উভয় ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার তেতলাবো এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। রোববার সকালে ওই গার্মেন্টস কর্মী নিজে বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে ওই গার্মেন্টস কর্মী জানান, তিনি উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার একটি স্পিনিং মিলে হেলপার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। বেশ কিছুদিন যাবত উত্তর মাসাবো এলাকার জয়নালের ছেলে জহিরুল প্রায় সময় তাকে প্রেমের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। জহিরুলের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শনিবার রাতে নাইট শিফটে কাজে যাওয়ার সময় জহিরুলসহ অজ্ঞাত ১ জন মিলে তাকে অটো গাড়িতে তুলে তেতলাব এলাকার খানের বাউন্ডারির ভিতর একতলা বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত ১ জন পাহারা দেয় ও জহিরুল তাকে সারারাত ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ধর্ষক জহিরুল তাকে ফেলে রেখে চলে যায়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দেবীদ্বার, কুমিল্লা : দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ৫০ টাকা দেয়ার লোভ দেখিয়ে বেগুন ক্ষেতে নিয়ে চাচাকর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বাগুর গ্রামে। ধর্ষণের অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম (২২) নামে ওই যুবককে শনিবার রাতেই আটক করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। রিয়াজুল ইসলাম বাগুর গ্রামের রেনু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় সম্পর্কে চাচা রিয়াজুল ইসলাম ওই শিশুটিকে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী আবদুল ওহাব মিয়ার বেগুন ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই শিশুটিকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। শিশুটির আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাহার নামে এক স্কুলছাত্র এগিয়ে গিয়ে ওই ঘটনা দেখতে পেয়ে বেগুন গাছ দিয়ে ধর্ষক রিয়াজুলকে পিটিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী ও নির্যাতিত ওই ছাত্রীর মা জানান, রিয়াজুল আমার মেয়ের সম্পর্কে চাচা হলেও, সে আমার মেয়েকে দেখলে প্রায় সময়ই বিভিন্ন খারাপ কথা বলত এবং আমার মেয়েকে বিরক্ত করতো। বিষয়টি আমি জানার পর মেয়েকে আর বিরক্ত না করার জন্য রিয়াজুলকে অনুরোধ করি। তারপরও সে শোনেনি, সর্বশেষ কয়েকদিন আগে তার মায়ের কাছে নালিশ দিলেও তার মা হাসি দিয়ে আমার কথাটি উড়িয়ে দেন, আমার কথার কোন মূল্য দেননি তিনি। যার কারণে আজ আমার শিশু মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হলো। আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, নির্যাতিত ওই শিশুটির গায়ে নখের আঁচর রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত রিয়াজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। গতকাল সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।