• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

ব্যবসায়ীদের কৌশল

রমজানের আগেই বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

image

রমজানের পণ্যে দাম বাড়াতে কৌশলী হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোজায় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা থেকে বাঁচতে আগেই বাড়িয়েছেন তারা। গত সপ্তাহে দুই দিনের ব্যবধানে পিয়াজের দাম কেজিতে বাড়িয়েছেন ১০ টাকা। এছাড়া সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা করে। এছাড়া কয়েক সপ্তাহে কেজিতে গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩০-৫০ টাকা। অথচ পণ্য সরবরাহ ও পরিবহনে কোন সমস্যা নেই। আর দেশে এমন কোন ঘটনাও ঘটেনি যাতে পণ্যের ঘাটতি হতে পারে। এছাড়া এখনও রমজানের বাকি আরও অর্ধমাসের উপরে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে বাণিজ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের ফল হয়েছে উল্টো। ব্যবসায়ীরা কৌশলী হয়ে রমজানের আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। যাতে ওই সময় আর বাড়নোর প্রয়োজন না হয়। ক্রেতারা বলছেন, এখনও রমজানের কেনা-কাটা শুরু হয়নি তাই বাড়তি চাহিদার চাপও বাজারে নেই। তবুও রাতারাতি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাজার মনিটরিংয়ের কোন আলমতই দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

জানা গেছে, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে রমজানে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশ্বাস দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চাহিদার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অনেক বেশি মজুত রয়েছে, তাই আসন্ন রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশা করছি। পণ্য আনা-নেয়ার রাস্তায় যেন কোন ধরনের চাঁদাবাজি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্টদের শীঘ্রই চিঠি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পিয়াজ ও খেজুর টিসিবির মাধ্যমে শীঘ্রই বিক্রি করা শুরু হবে। আমাদের ধারণা যে, রমজানে পণ্যের দাম তেমন বাড়বে না। কারণ মজুদসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের কাছে যে রিপোর্ট আছে তাতে প্রয়োজনের তুলনায় নিত্যপণ্যের মজুদ অনেক বেশি। তবে চিনিতে হয়ত এক-দু টাকা বাড়তে পারে। কারণ চিনির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একদিকে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অন্যদিকে বাজারে বাড়ছে পণ্যের দাম। বিশেষ করে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি হবে এবং দীর্ঘ দিন ঘরে রেখে খাওয়া যাবে সেসব পণ্যের দাম কয়েক দিনের মধ্যে অস্বাভাবিক বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাস আসার আগেই বাজারে সবজি, পিয়াজ, মরিচ, আদা রসুন, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। দেশি ও ফার্মের মুরগির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেশি। এখন দু’একটি ছাড়া সব সবজির দামই ৫০ টাকার উপরে। গত সপ্তাহের শুরুতেও এসব পণ্যেও দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা কম ছিল।

বৃহস্পতিবার মুগরা বাসার টাওয়ার কাঁচাবাজারে এক পিয়াজের দোকানে দাঁড়িয়ে ওবাইদুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, রমজানের শুরুতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে আলোচনা হয়, তাই এবার বিক্রেতারা রমজানের আগেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওই ক্রেতা জানান, রোববারও এই দোকান থেকে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা করে পিয়াজ কিনেছিলাম। আজ (বৃহস্পতিবার) তা ৩৫ টাকা কেজি চাইছে। দামাদামি করে ৩৩ টাকায় নিয়েছি। তার জবাবে ওই বিক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে। আমাদেরও বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গতকাল ৩৫-৪০ টাকা করে পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ওই বাজারে। এছাড়া তুলনামূলক নিম্নমানের পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৮-৩২ টাকা করে।

রাজধানীর কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে শুধু পিয়াজই নয় দাম বেড়েছে সব ধরনের নিত্যপণ্যের। কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ভালোমানের দেশি পিয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছেন ১২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ টাকা। আর আলু বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা পাল্লা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৫ টাকা। খুচড়া বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫ টাকা। এছাড়া আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা কেজি, রসুন ৯০-১০০ টাকা কেজি। এসব পণ্যের দাম এক সপ্তাহ আগেও ৫-১০ টাকা কম ছিল।

সবজির মধ্যে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। ৫০ টাকার নিচে বাজারে কোন সবজি নেই। বরবটি, ঢেঁড়স, কচুর লতি, করলা, বেগুন, চিচিঙ্গা, শজনে ডাটা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। শিম ও বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। পটল ও টমেটো বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায় কেজিপ্রতি। কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৬০ টাকা কেজি দরে। লাল লেয়ার মুরগি ২১০-২২০, আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজিতে। মুরগির মতো বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গরু ও খাসির মাংস। বাজার ভেদে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। কয়েক সপ্তাহ আগেও গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়। বাজারভেদে ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকায়।

মাংসের মতো চড়া দামে বিক্রি হয়েছে মাছ। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজিতে। পাঙাশ ১৫০-১৮০, রুই ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৭০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি। তবে এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল ও তেলসহ বেশি কিছু মুদি পণ্যের দাম। বিক্রেতারা বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম কমে যাওয়ায় এবার রোজাতেও হয়তো তেমন বাড়বে না।