• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

স্মরণসভায় বক্তারা

রনজিত কুমার জ্বালিয়েছেন সাহসী বিপ্লবের আগুন কাঠি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

গতকাল নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবি-প্রাবন্ধিক-আবৃত্তিকার-সংস্কৃতি সংগঠক প্রয়াত রনজিত কুমারের স্মরণসভায় আলোচক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ড. সারোয়ার আলীসহ নেতৃবৃন্দ -সংবাদ

‘যাবনা ছেড়ে এ পলল মাটি’ নিজ রচিত এই কবিতার মতো অবিরাম বিচরন করতে পারলেন না, বড্ড অসময়ে চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আউটরিচ প্রকল্পের সমন্বয়ক, কবি, প্রাবন্ধিক, সংস্কৃতিক সংগঠক রনজিত কুমার। যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, বাঁচার অধিকার তারই। রনজিত কুমার নিজে পুরেছেন এবং মানব মুক্তির জন্য লড়েছেন। জ্বালিয়েছেন সাহসী বিপ্লবের আগুন কাঠি। গতকাল বিকালে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রনজিত কুমারের স্মরণসভায় বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত রনজিত কুমারের স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল। সভায় স্মৃতিচারণ করেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, রনজিত কুমারের সহধর্মিণী সঞ্চিতা শর্মা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, রনজিত কুমারের নিজের গড়া শ্রুতি একাডেমির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, রনজিত কুমারের সহযোদ্ধা সুহৃদ জাহাঙ্গীর, সহকর্মী রফিকুল ইসলাম, ‘সমমনা’ এর সভাপতি দুলাল সাহা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশের ওর্য়ার্কাস পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল। স্মৃতিচারণের পূর্বে রনজিত কুমারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন দীনা তাজরীন এবং রনজিত কুমারের রচিত কবিতা পাঠ করেন লোপা মমতাজ।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা আরো বলেন,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিবাদী আন্দোলনে রনজিত কুমার সর্বদা সক্রিয় ছিলেন। তার কাজের বিনিময় মূল্য তিনি কখনও পাননি। সংগঠন করতে গিয়ে তিনি যে শ্রম এবং ঘাম ঝরিয়েছেন, তার হাতে গড়া সংস্কৃতি কর্মীরা সেই আদর্শ বহন করে চলবে। বিদায় বলার মতো সময় না আসলেও আরেকজন রনজিত কুমারের অপেক্ষায় তাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় দিতে হলো। মৃত্যুর পূর্বে পাখি, নীরবে চলে যায় একাকী, এ কথা কি জেনে গেছে সবে? “আমিও চলে যাব একাকী ঐ নির্জনে, জীবনের সঞ্চিত ধন দিয়ে যাব সব।এই নাও আমার বুকপকেট, দেখ কতশত নাম লেখা আছে ভালোবাসার ঘামে”। রনজিত কুমারের রচিত এই কবিতা পাঠ করে বক্তারা বলেন, যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকে, বাঁচার অধিকার কেবল তারই। রনজিত কুমার যে পথের পথিক ছিলেন তার অনুসারীদের সেই পথে চলতে আহবান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তায় রনজিত কুমার হৃদরোগে আক্রান্ত হন।এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ২ জানুয়ারি তার ওপেন হার্ট সার্জারি হলে অপারেশনের ২ ঘণ্টা পরেই মৃত্যুবরণ করেন। নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের মাতুলালয়ে ১৯৬২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রমেশ দাস নারায়ণগঞ্জে কুমুদিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বিশিষ্ট প্রকৃতি বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মার ভ্রাতুষ্পুত্রী সঞ্চিতা শর্মাকে বিয়ে করেন। প্রান্ত এবং অনন্ত নামে তার দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।