• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ ৪ রমজান ১৪৪২

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আলোচনা সভায় বক্তারা

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অগ্রসর বাংলাদেশ গড়তে হবে

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষা ও ভাষা আন্দোলনের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অগ্রসর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জাতীয় জাগরণ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতারা। গতকাল শাহবাগ টেনিস ফেডারেশনস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাষা দিবসের আলোচনাসভায় এই আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ঐক্যন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এমএম আকাশ, ডা. অসিত বরণ রায়, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ, সানোয়ার হোসেন সামছী সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, বিপ্লব চাকমা, কেন্দ্রীয় নেতা ড. সেলু বাসিত, আবদুল ওয়াহেদ, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, বেলায়েত হোসেন, এম শফিউর রহমান খান বাচ্চু, জোবায়ের আলম প্রমুখ। সভায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য আরও বলেন, আমরা মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা রক্ষা করার তাগিদ থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানাই। মূলত আমাদের রাষ্ট্র স্বাধীন হলেও এখনও সমাজে নিরীহ নারী, পুরুষ, শিশু, শ্রমিক, কৃষক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উন্নয়নের জেয়ারে এখানে লুটেরা, মাফিয়া, গডফাদার ও সাম্প্রদায়িকতার অপছায়ায় জাতীয় চেতনা ভূলন্ঠিত হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এখনও ছায়া শক্তি হিসেবে বিবেকবান দেশপ্রেমিক, ছাত্র-যুব, শিক্ষক, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের হুমকী ও হত্যার ঘটনা বিদ্যমান রয়েছে। এদের রুখতে হলে ক্ষমতার লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। জনগণের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার পাশাপাশি ন্যূনতম ভোটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার হরতে হবে। সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের সমান মর্যাদার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থার জায়গা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাজার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রনহীনতা বন্ধ করা না গেলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তা বুঝে মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একদিকে ধনী-গরিব বৈষম্য, অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রুটি ও বহুমুখী বিশেষ করে বাণিজীক কারণে সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা ছাড়া শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকীকরণ, ইংরেজি ভার্ষন নানাবিধ ব্যবস্থা জাতীয় চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে কোমল মতি শিশুদের বিভ্রান্ত করছে আমরা ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারায় সবার জন্য গণমুখী বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি করছি। একই সঙ্গে কোচিংয়ের নামে শিক্ষা ব্যবসাও কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠিতে আমাদের দেশ কিছু বিষয়ে অগ্রসর হলেও মানবিকতা, প্রগতি ও অসাম্প্রদায়িকতার মানদণ্ডে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এখানে লুটপাট ও মাফিয়া প্রভাবিত অর্থনীতির ব্যবস্থা প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিপজ্জনক মাফিয়া বেষ্ঠিত সাম্প্রদায়িক শক্তির রাষ্ট্রে ধাবিত হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতেদ তরুণ প্রজন্মের কাছে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনার ধারা গড়ে তুলতে হবে। ধনী-গরিবের বৈষম্য নিরসনে রাষ্ট্রকে সংবেদনশীল ভূমিকা নিতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ বলেন, মূলত আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের চর্চা দীর্ঘ সময় থেকে না থাকায় দেশে অসাম্প্রদায়িক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। দিনে দিনে এ শক্তি ক্ষীণতর হচ্ছে, আমরা মনে করি ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে সমাজে সংস্কৃতির চর্চা, সৃজনশীল চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে হবে। একুশ আমাদের চেতনাকে শানিত করে, একুশের চেতনায় বাঙালিত্বের বীজ বপিত হয়েছে, এখন সময় এসেছে সে বীজকে ছড়িয়ে দেবার। আমরা আশা করব সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাংলা ও বাঙালিত্বের ধারা শক্তিশালী হবে।

সভায় আগামী ৬ মার্চ ২০২০ শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নারী-শিশু সুরক্ষা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও উগ্রধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের’ দাবিতে দেশব্যাপী সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।