• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

মিরপুর থেকে

নিখোঁজ প্রকৌশলীর খোঁজ মেলেনি ৪ দিনেও

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী কামরুল হাসান (৩১) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গত সোমবার ডিওএইচএসের অফিস থেকে পল্লবীর বাসার উদ্দেশে রওনা দেয়ার পথে নিখোঁজ হন তিনি। এ ঘটনায় নিখোঁজ প্রকৌশলীর বাবা রুস্তম আলী পল্লবী থানায় ছেলের সন্ধান ও জীবিত উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন (জিডি নং-১৫০)। ৪ দিন পার হলেও পুলিশ প্রকৌশলী কামরুলের নিখোঁজ রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, কামরুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করে প্রাইভেসেস একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানে মনোয়ার নামে একজনের সঙ্গে বিবাধ হলে চাকরি ছেড়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। ডিওএইচএসের ১০ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর লেনের ৭৬৪ নম্বার বাসার দ্বিতীয় তলার এফ ১ ফ্ল্যাটে আইটি ফার্মের অফিসও ভাড়া নিয়েছিলেন কামরুল। গত সোমবার সকালে পল্লবীর বারুনটেকের ১৪/১ নম্বর বাসা থেকে মিরপুর ডিওএইচএসের অফিসে যান। ওই দিন রাত সাড়ে দশটার দিকে কামরুলের স্ত্রী শারমিন তাকে ফোন করেন। ফোন রিসিভ না করে কামরুল তার ০১৭০৬৫০৭৭৫৮ নম্বর থেকে স্ত্রী শারমীর আক্তারের মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু কামরুল আর বাসায় ফেরেনি। বাসায় না ফেরায় কামরুলের নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পরদিন কামরুলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মো. রুস্তম আলী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পল্লবী থানার এসআই মমিনুর রহমানকে। পারিবারিক সূত্র জানায়, নিখোঁজ কামরুলের এক মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। কারমরুল নিখোঁজ হওয়ার পর ৪ দিনেও খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজের পর থেকেই কামরুলের মা চম্পা বেগম এবং অসুস্থ স্ত্রী শারমিন আক্তার আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা কামরুলকে জীবিত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

নিখোঁজের স্ত্রী শারমিন বেগম জানান, তার স্বামী ‘কামরুলের সঙ্গে কারও শত্রুতা আছে বলে তাদের জানা নেই। তবে সম্প্রতি তার আগের অফিস থেকে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কামরুল।’ তাদের ধারণা আগের অফিসের কারও হাত থাকতে পারে কামরুলের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে। কামরুলকে অপহরণ করা হয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মুক্তিপণ হিসেবে টাকা পয়সা চায়নি।

কামরুলের বাবা রুস্তম আলী জানান, তিনি বিমানবাহিনীর মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। তার ছেলে রাতে বাসায় না ফেরায় তিনি অফিসে খোঁজ নেন। অফিস থেকে জানতে পারেন রাত সাড়ে ১০টায় কামরুল অফিস থেকে বের হয়েছেন। এরপর তিনি থানায় সাধারণ ডারেয়ি করেন। অফিস ও ১০ নম্বর রোডের কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন কামরুলের সর্বশেষ অবস্থান সাগুপতা বাস স্ট্যান্ডের কাছে ছিল রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত। তিনি বলেন, ছেলের খোঁজে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালেও গিয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের কাছেও গিয়েছেন। আজ ডিবিতে ছেলের খোঁজে যাবেন। তার সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে কী কারণে নিয়েছে এটা তিনি জানেন না। বিভিন্ন মহল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা তার ছেলেকে অপহরণ করলে ফোন করে চাঁদা বা মুক্তিপণ চাইতো। কিন্তু ৪ দিনে চাঁদা বা মুক্তিপণ চেয়ে কেউ ফোন করেননি।

এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এরইমধ্যে ডিওএইচএসের ওই সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে আরও কোন কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।