• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১

ওবায়দুল কাদের ফিরেছেন

নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

image

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ২ মাস ১১ দিন পর দেশে ফিরলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। গতকাল বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের, এপিএস মহিদুল হক, সেতু বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা শেখ ওয়ালিদ ফয়েজসহ পরিবারের লোকজন। বিমানবন্দনে পৌঁছার পর তাকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতরা।

বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২ মাস ১১ দিন আগে আমার জীবন ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। বাঁচব কিনা, এ নিয়ে সংশয় ছিল। ওই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরম করুণাময় আল্লাহতাআলার ইচ্ছায় ও আমাদের প্রিয় নেত্রীÑ যিনি চরম সংকটে মা তার সন্তানের জন্য যা করেন, তিনি আমার জন্য তা-ই করেছেন। তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। তিনি মমতাময়ী মা। সত্যিই তার কাছে আমার ঋণের বোঝা বেড়ে গেল। তিনি বলেন, শেখ রেহানাÑ তিনি কোরআন শরিফ পাঠ করে আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না। শুনেছি, আপনজন এই সময় কাছে এসে ডাকলে মৃত্যুপথযাত্রী সাড়া দেন। শেখ হাসিনা আমাকে নাম ধরে ডেকেছিলেন। তখন আমি সাড়া দিয়েছিলামÑ এটি পরে আমাকে বলেছেন। সারাদেশের মানুষ, দল ও দলের বাইরের সবাই আমার জন্য দোয়া করেছেন, এমনকি প্রবাসী বাঙালিরা আমার পাশে ছিলেন। সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো, মানুষের ভালোবাসা। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের পাশে আছি। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা পাওয়া। তা আমি পেয়েছি।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করে আমাদের নেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করি। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতিÑ যারা আমার অনুপস্থিতিতে টিমওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে দেননি। আর ৫ মিনিট পর যদি আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যেতাম, তাহলে অন্য ঘটনাও ঘটে যেতে পারতÑ আপনারা কি তা ভেবেছেন? এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ডা. দেবি শেঠির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছেন। গত ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি হলে এনজিওগ্রামে তার হৃৎপিন্ডের রক্তনালিতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। সেখানে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। এরপর গত ৪ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামির নেতৃত্বে তার বাইপাস সার্জারি করা হয়। ছয় দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় কেবিনে। এক মাস চিকিৎসার পর ৫ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল ছেড়ে সিঙ্গাপুরে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখান থেকে নিয়মিত ‘চেকআপ’ করাতেন। সর্বশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করে দেশের ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।