• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ জিলকদ ১৪৪১

নওয়াপাড়ায়

নকল ওষুধ কারখানার সন্ধান : বিপুল ওষুধ জব্দ

সংবাদ :
  • যশোর অফিস

| ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

যশোরের শিল্প শহর নওয়াপাড়ায় একটি নকল ওষুধ কারখানার শনাক্ত করেছে র‌্যাব। ‘লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল’ নামের ওই অবৈধ কারাখানায় অভিযান চালিয়ে ‘সেকনো ২০’ (গ্যাসট্রিক আলসার প্রতিরোধক) নামের নকল প্রচুর ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ওষুধ তৈরির প্রচুর কাঁচামাল, কাগজপত্র ও দুটি আধুনিক মেশিনসহ বিভিন্ন মালা। আটক করা হয়েছে আল-আমিন নামের এক ভ্যানচালককে। তবে কারখানার মালিক আতাউর রহমান প্রিন্স পলাতক। শুক্রবার ভোরে র‌্যাব এ অভিযান শুরু করে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মালামাল জব্দসহ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল। শুক্রবার দুপুরের পর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব। অভিযানে আটক হয়েছে ভ্যানচালক একই গ্রামের মৃত ইয়াছিন মোল্যার ছেলে আল-আমিন (২৭)।

অভয়নগর উপজেলা পরিষদ ও আকিজ জুট মিলের মাঝামাঝি গুয়াখোলা গ্রামে খানজাহান আলী সড়কের ৪৬৪নং বাড়িতে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল্স (ফুড অ্যান্ড ফিড ডিভিশন) নামে নকল ওষুধ তৈরির এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।

র‌্যাব ৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. সুরাত আলী সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, গুয়াখোলা গ্রামে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালস (ফুড অ্যান্ড ফিড ডিভিশন) নামের একটি নকল ওষুধ তৈরির কারখানা রয়েছে। খবর পেয়ে এ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কারখানায় ওষুধ তৈরির কোন বৈধ কাগজপত্র। একটি মোটরচালিত ভ্যানে করে প্যাকেটজাত ‘সেকনো-২০’ নামের ওষুধ নেয়ার সময় ভ্যানচালক আল-আমিনকে আটক করা হয়।

পরে দুইতলা ভবনের নিচতলায় প্রায় সাড়ে ৫শ’ পিস ‘সেকনো-২০’ নামের প্যাকেটকৃত ওষুধ, ওষুধ তৈরির প্রচুর কাঁচামাল, প্যাকেটিং করার জন্য দুটি আধুনিক মেশিন, ১০টি সাদা কাপড়ের পোশাকসহ কাগজপত্র ও বিভিন্ন মালের সন্ধান পাওয়া যায়। তা পরে জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানসহ মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

আটক ভ্যানচালক আল-আমিন জানান, আতাউর রহমান প্রিন্স নামের একজন তাকে দুই কার্টন ওষুধ নওয়াপাড়া বাজারে একটি কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে দিয়ে আসতে বলে চলে যান। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না। পরে র‌্যাব তাকে আটক করে।

লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যাল কারখানার আশপাশের বাড়ি মালিকরা জানায়, বাড়ির মালিক ইঞ্জিনিয়ার শওকত হোসেন ঢাকায় চাকরি করেন। চকলেট তৈরির কারখানা হিসেবে বাড়িটি এলাকায় পরিচিত। এ কারণে তারা ওই বাড়ির দিকে খেয়াল রাখতেন না। তাছাড়া কারখানার মূল গেট সব সময় বন্ধ থাকত। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ১০-১৫ মহিলা ভেতরে প্রবেশ করত এবং রাত ৮টায় বেরিয়ে যেত। আবাসিক এলাকায় নকল ওষুধ তৈরির ব্যাপার জানতে পেরে তারা হতবাক হয়ে যান।

এ ব্যাপারে লাইফকেয়ার নিউট্রাসিউটিক্যালের সাইনবোর্ডে ঢাকা অফিসের ০১৭১৫-১৫৬১১৮ নম্বর ও স্থানীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান প্রিন্সের ০১৭১২-০২৭৫৩৭ নম্বরে বার বার ফোন দেয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।