• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

‘জাতীয় যন্ত্রসংগীত উৎসব ২০১৮’

দ্বিতীয় দিনে লোকজ ও রাগ সংগীতে মুখর প্রাঙ্গণ

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০১৮

image

শিল্পকলায় যন্ত্রসংগীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনে লোকজ ও রাগ সংগীত পরিবেশন -সংবাদ

বাংলার বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রসংগীতকে রক্ষা ও মানসম্মত চর্চাসহ নতুন প্রজন্মকে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে আগ্রহী করে তোলার লক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘জাতীয় যন্ত্রসংগীত উৎসব’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ১০ দিন সময়সীমার এই যন্ত্রসংগীত উৎসবের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিনের মতো এদিনও ছিল দেশের বিভিন্ন জেলার যন্ত্রশিল্পীদের-সেতার, বেহালা, দোতারা, মন্দিরা, বাঁশিসহ দেশীয় নানা বাদ্যযন্ত্রে লোকজ সুর আর রাগসংগীত পরিবেশনায় মুখরিত ছিলো পুরো শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ। উৎসবের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই সেতার শিল্পী ফিরোজ খানের ‘সেতার’ বাদন, আরবারের ‘বেহালা’ বাদনর সঙ্গে বাঁশিতে সুর তোলেন আজিজুল ইসলাম। এরপর জেলাভিত্তিক পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর, যশোর, রাজবাড়ী, নাটোর ও বরগুনার যন্ত্রীরা।

সুনামগঞ্জ জেলার যন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনা দিয়েই শুরু হয় জেলাভিত্তিক পরিবেশনা। এ জেলার পর্বে ‘হারমোনিয়াম’ বাজিয়ে শোনান দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন ও সোহেল রানা, ‘তবলা’য় বোল তোলেন অঞ্জন চৌধুরী, অরিজিৎ ঘোষ চৌধুরী ও বাবুল আচার্য্য, ‘বাঁশি’তে সুর তোলেন জায়েদ মাহমুদ, ‘দোতারা’ বাজান বাউল রশীদ উদ্দিন, ‘নাল’ বাদনে ছিলেন কপিল ঋষি, ‘মন্দিরা’ পরিবেশন করেন অমিত বর্মণ, ‘জিপসী’ বাজান আহসান জামিল আনাছ এবং ‘খঞ্জনী’ বাজান সামির পল্লব। এরপর মঞ্চে আসেন যশোর জেলার যন্ত্রশিল্পীরা। এ জেলার শিল্পীদের মধ্যে ‘বাংলা ঢোল’ বাজান সাঈদ আহমেদ খান, ‘বাঁশি’ বাজান মো. আজিজুর রহমান, ‘খমক ও জিপসী’তে ছিলেন মকবুল হোসেন, ‘দোতারা’য় নকুল কুমার বিশ্বাস, ‘তবলা’য় প্রবীর ব্যানার্জি, অমিত বিশ্বাস ও মো. ফারুক হোসেন, ‘মন্দিরা’য় মানিক বর্মণ, ‘জুরি’ বাজিয়ে শোনান তাপস সরকার এবং ‘ঢোল’ মিলন কুমার দাস। রাজবাড়ীর পরিবেশনায় ‘হারমোনিয়াম’ বাজান চপল কুমার সান্যাল ও জান্নাতুল ফেরদৌসী মিমি, ‘তবলা’য় বিমল রায়, ‘দোতারা’য় মেহেদী হাসান, ‘তানপুরা’য় নিজাম আনসারী, ‘বাঁশি’ সোহরাব হোসেন, ‘করতাল’ বাজান তপন শীল এবং ‘বেহালা’য় ছিলেন আবরার। নাটোর জেলার পরিবেশনায় ‘বেহালা’ বাজান বিজন কুমার ম-ল, ‘বাঁশি’তে বিয়ের গীত পরিবেশন করেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আবদুল আউয়াল ও সুমিত কুমার সরকার ‘হারমোনিয়াম’-এ ও ‘তবলা’য় কীর্ত্তন পরিবেশন করেন কীর্ত্তন।

এরপরেই মঞ্চে বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেত আসেন দেশের প্রথম রাজধানী (অস্থায়ী) মেহেরপুরের যন্ত্রশিল্পীরা। মেহেরপুরের যন্ত্রশিল্পীদের মধ্যে উৎসবে ‘তবলা’য় শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন রাগ পরিবেশন করেন-শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু, হারমোনিয়ামে দেশাত্ববোধক সুর বাজিয়ে শোনান এখলাসুর রহমান ও এম সাইদুর রহমান। বাঁশিতে পল্লীগীতি পরিবেশন করেন আশিকুর রহমান লাল্টু। ক্লারিওনেট রাগ ইমন পরিবেশন করেন আমিনুল ইসলাম। এছাড়া দোতারায় লোকজ সুর শোনান আবদুল্লাহ আল মামুন, তাকে বাংলা ঢোলে সংগত করেন সজিব।

বাঙালি জাতির বাদ্যপ্রিয়তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ধরে রাখতে এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালির লুপ্তপ্রায়-প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণের লক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি এই যন্ত্রসংগীত উৎসব আয়োজন করেছে। ১০ দিনব্যাপী উৎসবের প্রতিদিন ৪ থেকে ৭টি জেলার যন্ত্রশিল্পীরা অংশগ্রহণ ও বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনাসহ জাতীয় শিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে। উৎসবের ষষ্ঠ দিন ৬ জানুয়ারি সকালে জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘বাংলা ও বাঙালির বাদ্যযন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।