• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১

মাদারীপুরে

দুই কিশোরীকে ২ দিন আটকে রেখে নির্যাতন

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মাদারীপুর

| ঢাকা , রোববার, ০৭ এপ্রিল ২০১৯

মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বোতলা গ্রামের দুই কিশোরীকে দুইদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন সালিস মীমাংসার নামে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মন্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।

বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে। পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা সালিস মীমাংসার নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জেনে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালিস মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ কর্মী দেলোয়ার ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিন মোল্লা। নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এরপর আমরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুঁজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতুব্বররা সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। আরেক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এ সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে ৭-৮ জন পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি বখাটেরা ওই মেয়েদের ইজ্জত হরণ করছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, দেলোয়ার দারোগা এবং মতিন মোল্লা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে তিন লাখ টাকা নিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একারণেই নাকি মামলা হয়নি। তবে এ ব্যাপারে ফ্ল্যাট মালিক মাহবুব সরদারের ফ্ল্যাটে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে তারা ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সালিসদার মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তবে আমি টাকাও নেইনি মীমাংসাও করিনি।

টাকা নিয়ে সালিস মীমাংসার ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ারের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো নেগেটিভ কথাই ভালো শুনেন। শুনলে তো কিছু করার নাই। তবে আপনারা আরও তদন্ত করে দেখুন।’ তবে এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে শুক্রবার গভীর রাতে ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।

এব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হাওলাদার বলেন, এই ঘটনা সালিসযোগ্য নয়। অবশ্যই মামলা হবে। যদি কোন পুলিশের এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।