• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

কোরবানির ঈদ ঘিরে

তৎপর অজ্ঞান ও মলম পার্টির নেটওয়ার্কে গোয়েন্দা পুলিশের হানা

৮ বিভাগে অভিযানে গ্রেফতার অর্ধশত

সংবাদ :
  • সাইফ বাবলু

| ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

কোরবানির ঈদ ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। জেলে থাকা এসব চক্রের সদস্যদের অধিকাংশ জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সংঘবদ্ধভাবে এলাকা ভাগ করে মাঠে নেমেছে। চক্রের সদস্যরা মূল টার্গেট করেছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী, কোরবানির পশুর বেপারিদের। গত দুই দিনে ঢাকা মহানগর অপরাধ তথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের সদস্যরে দুর্গে হানা দিয়েছে। টানা অভিযান চালিয়ে অর্ধশত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া সদস্যদের কাছ থেকে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিত্বে ডিবির টিম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে কড়া নজরদারী বৃদ্ধি করেছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অজ্ঞান, মলমপার্র্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের দূর্গ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এবার এসব চক্রের সদস্যরা যাতে কোন অপরাধ ঘটাতে না পারে এ জন্য সারা দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর অপরাধ তথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগের রমনা বিভাগ, ওয়ারী বিভাগ এবং ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পৃথক অভিযানে অর্ধশতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, হৃদয় হোসেন (৩২), মো. আলম (২৭), মো. মনির হোসেন (২৯), মো. লিটন পাটোয়ারী (২৬), মো. সুমন (২৫), মো. আবু বকর সিদ্দিক (৪৯), মো. সাগর (২৩), মো. নাজমুল হোসেন (২০), আল আমিন (২১), মো. মাসুম (৩৫)। একইভাবে অভিযানে ডিবির ওয়ারী বিভাগ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলো মো. হাসান (২৬), মো. আরশাদুল (২৫), মো. রবিউল (২৬), মো. বাপ্পি ঘরামি (২৪), মো. সিরাজুল (২৬), সেলিম (৩৫), মো. সোহেল (২৭), মো. জাবেদ হাওলাদার (২৫), ফাহিম (২৫), মো. আনিস (৩০), মো. সোহেল (২৮), মো. মাসুদ রানা (৩০), মো. রানা (৩৬), নুর হোসেন (২৮), বাবুল (১৯) ইসহাক বাবু (২৪),। এছাড়া ডিবির লালবাগ বিভাগ ৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৮ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৯ জন, রমনা বিভাগ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে যা অজ্ঞান করে টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থসহ দামী মালামাল হাতিয়ে নেয়ার কাজে ব্যবহার হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছে, ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন গরুর হাটকে ঘিরে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল অজ্ঞান ও মলম মার্টির সদস্যরা। এসব চক্রের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে তারা ১০ থেকে ১৫ বার গ্রেফতার করে জেল খেটে জামিনে বের হয়েছে। প্রতিবছরই এরা ঈদকে ঘিরে সক্রিয় হয়। আদালতে কতিপয় আইনজীবীর মাধ্যমে এরা বাকিতে জামিন করায়। এরপর অপারেশন করে যে টাকা পয়সা অথবা দামি মালামাল ছিনিয়ে নেয় তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। সেখান থেকে যে অর্থ পায় তা থেকে আদালতে তাদের জামিনের কাজে সহযোগিতাকারী আইনজীবীর অর্থ পরিশোধ করে।

ডিবির গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে শতাধিক গ্রুপ মাঠে নেমেছে। এসব গ্রুপে কমপক্ষে ১ হাজারের মতো সদস্য সক্রিয় রয়েছে। এর বেশিরভাগই রাজধানীকেন্দ্রিক। এছাড়া রাজধানী চক্রের সঙ্গে আন্তঃজেলায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরাও রয়েছে। রাজধানীতে অপারেশন মিছ হলে বাস ট্রেন ও লঞ্চে আন্তঃজেলা চক্রের সদস্যরা দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করেন। অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের মধ্যে এক গ্রুপ শুধু গরুর হাটে অপারেশন করেন। গরু কিনতে আসা ক্রেতা, গরুর বেপারিরা তাদের টার্গেট। তারা হাটে গরুর ক্রেতা সেজে ঘুরে ঘুরে সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রয়কারী বেপারিদের নাম পরিচয় ও গন্তব্য কৌশলে জেনে নেয়। এরপর তারা ওই বেপারিকে তাদের অন্য সদস্যদের চিনিয়ে দেয়। গরু বিক্রি করে বেপারিরা বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন কৌশলে ওইসব বেপারিদের সঙ্গে রওনা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে সবকিছু লুটে নেয়। আরেক গ্রুপ রয়েছে যারা বাস ট্রেন, এবং লঞ্চে অপারেশন করে। এরা যাত্রী সেজে পাশের সিটে বসে। তবে এবার করোনার কারণে বাস ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রী কম হওয়ায় অজ্ঞান ও মলম মার্টির সদস্যরা গরুর হাটকে প্রধান টার্গেট করেছে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার মীর মোদদাছছের হোসেন জানান, টানা এক সপ্তাহ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ৫ জন ডাকাত ও ছিনতাইকারী গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা কোরবানির ঈদকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। গ্রেফতারকৃতদের পরিকল্পনা ছিল ঈদে ঘরমুখো মানুষ এবং বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশু নিয়ে আসা বেপারিরা। বিশেষ করে এসব চক্র এবার কোরবানির পশু বেপারিদের টার্গেট করেছিলো। গ্রেফতারকৃতরা একাধিক গ্রুপে ভাগ কয়ে কাজ করে। এর আগে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল। সম্প্রতি জামিন পেয়ে এরা ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ডিবির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার এইচএম আজিমুল হক জানান, অজ্ঞান পার্টির ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করার পর এদের দুর্গ তছনছ করে দেয়া হয়েছে। সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের এসব সদস্যরা হাজারীবাগ গরুর হাটকে টার্গেট করে সক্রিয় ছিল। এসব চক্রের সদস্য চেতনানাশক মলম, মরিচের গুঁড়ার সাহায্যে টার্গেট ব্যক্তির কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়।

ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার আবদুল আহদ জানান, ওয়ারী বিভাগের ডিবির সবগুলো টিম অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিকে একযোগে অভিযান চালায়। দুইদিন অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জসিম ও মুকুল নেতৃত্ব দেন। ডিসি আবদুল আহাদ জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের মধ্যে একাধিক গ্রুপ রয়েছে। আমরা যেসব গ্রুপ ধরেছি তারা সবাই রাজধানীকেন্দ্রিক সক্রিয় ছিল।