• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

দাফনের আগে জীবিত

ডেথ সার্টিফিকেট দেয়ার ঘটনা দুঃখজনক

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে দাফনের আগে মৃত নবজাতকের জীবিত হয়ে ওঠার ঘটনাকে মিরাকল হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় কারও কোন অবহেলা রয়েছে কি না, তদন্তে বিষয়টি উঠে আসবে। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে এমন ঘটনা হতেই পারে। অনেক জায়গায়ই হয়েছে। এটি একরকম মিরাকল। তবে আমরা দেখব, এই ঘটনায় কারও কোন অবহেলা ছিল কি না। তদন্ত শেষে কারও কোন গাফিলতি পাওয়া গেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এটুকু জানা গেছে, ইচ্ছা করে কেউ এটি করেনি। এদিকে গতকাল আমি চার সদস্যের তদন্ত কমিটির সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের কাছেও জানার চেষ্টা করেছি কী কারণে এমনটি হয়েছে। যতদূর জানতে পেরেছি, শিশুটি জন্মের পর কান্নাকাটি বা কোন ধরনের নড়চড়া করছিল না। তার হার্টবিটও পাওয়া যায়নি। আমাদের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পার হয়ে গেলেও তারা কোন রেসপন্স পাননি। তারপরও শিশুটিকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। সব চেষ্টার পরই চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে ডেথ সার্টিফিকেট দেন। এরপরই শিশুটিকে তার বাবা কবরস্থানে নিয়ে যান।

শিশুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, শিশুটি এখনও এনআইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল এক কেজিরও কম। অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় শিশুটির জন্ম হয়েছিল। যে কারণে তার শরীরের গঠনও পরিপূর্ণ না। অনেক কিছুতেই ঘাটতি রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় আসতেও তার সময় লাগবে। এক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। সমস্যাটা কোথায় ছিল, সেটি বের করার জন্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সঙ্গে আমি বসেছিলাম। তারা কাজ করে যাচ্ছে। কেন এরকম একটি ঘটনা ঘটল, সেটি অনুসন্ধান করে বের করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢামেক হাসপাতালে গত শুক্রবার ভোরে ওই নবজাতকটি ভূমিষ্ঠ হয়। নবজাতকটির বাবা ইয়াছিন জানান, ৬ মাস ১৬ দিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। তার রক্তচাপ অনেক বেশি ছিল। ওই অবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি করানো হয়। তবে হৃদস্পন্দন না থাকায় শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গত শুক্রবার সকালে শিশুটিকে নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করাতে গেলে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় ইয়াছিন তাকে রায়েরবাগ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে নিয়ে যান। দাফনের আগে কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ কান্নার শব্দ পেলে তারা বুঝতে পারেন, শিশুটি নড়াচড়া করছে। পরে তাকে ফের ঢামেক হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মনীষা ব্যানার্জীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শিখা গাঙ্গুলি, অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুব্রত কুমার মন্ডল ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন)।