• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

রাজশাহীতে

জীবনানন্দ কবিতা মেলা শুরু

সংবাদ :
  • সুব্রতদাস, রাজশাহী

| ঢাকা , শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

কবি জীবনানন্দ দাশ সময়োত্তর কবি। নিরন্তর তিনি সময়কে অতিক্রম করে চিরকালীন এক অধ্বনিন মহাবিশ্বের দিকে আমাদের নিয়ে যান। মানুষের জীবন সততই মৃত্যুকীর্ণ। বিরূপ বিশ্বের মাঝে মনুষ্যহৃদয়ের প্রেম প্রীতি ভালোবাসা এবং মানব মহিমার জয়স্তম্ভ গড়ে তুলতে মুনিঋষি-নবী ও কবিরা নিজেদের জীবনকে মথিত করে যে সারাৎসার আমাদের দিয়ে চলেছেন তাই মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ। এদিক থেকে সমগ্র বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বলয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ বিস্ময়কর উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। বিশ্ব সাহিত্যেরও অনির্বাণ শিখা।

‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন; মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।’ পঙ্ক্তিটি আমাদের মানব বিশ্বকে সাহস ও শক্তি যোগায়। এই পঙ্ক্তিটি সামনে রেখে রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী জীবনানন্দ কবিতার মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম কলেজ প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলাটির আয়োজন করেছে কবিদের সংগঠন কবিকুঞ্জ।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, আমাদের বহির কাঠামো একটু আকটু ঠিক হচ্ছে, তেমনি আমাদের অন্তর কাঠামোর সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন প্রয়োজন আছে। ‘পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমাকে পশ্চাতে টানিছে’-এই কথাটি দেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে। যতই তুমি দেশের সাধারণ মানুষকে পেছনে ফেলে রাখবে, ততই তোমার পিছন টান পড়বে, সামনে এগুতে পারবে না। পৃথিবীর বড় বড় দেশে এটি ঘটে না, দুর্ভাগ্যক্রমে এখনও আমরা এই ধরনের সমাজ নির্মাণ করতে পারিনি। মেলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটুক, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটুক, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার আরও উন্নয়ন ঘটুক, মানুষের প্রতি মানুষের সহযোগিতা আরও বাড়ুক এবং এই কথাটি মনে রাখতে হবে যে, কোন সংস্কৃতি যদি বৃহত্তর পরিসীমায় নিতে না পারা যায়, তাহলে সেই ওইটাই বলবে, পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমাকে পশ্চাতে টানিছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ পেছন যদি আমাদের টানে আমরা এক পা এগুতে পারব না। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যাতে আরও দৃঢ় হয়। এটিই জীবনানন্দ কবিতা মেলার মূখ্য উদ্দেশ্য।’ অনুষ্ঠানে মেয়র লিটন বলেন, কবিকুঞ্জ সারাবছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের আয়োজন করে। যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দিকপালদের সমাগত ঘটে। এই আয়োজনের জন্য কবিকুঞ্জকে ধন্যবাদ জানান তিনি। কবিকুঞ্জর সভাপতি কবি রুহুল আমিন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধক ছিলেন কবি মাকিদ হায়দার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট রাজশাহীর সভাপতি ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য কবি আসাদ মান্নান, কবি ও গবেষক ড. তসিকু ইসলাম রাজা প্রমুখ কবিকুঞ্জ আয়োজিত জীবনানন্দ কবিতামেলা শুধু দেশ-বিদেশের লেখক-কবিদের মিলন মেলা নয়, এটি ক্রমেই রাজশাহী মহানগরীর সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতার পরিচয় জ্ঞাপক হয়ে উঠেছে এবং আবহমান বাংলা ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িক শুভবাদী সাংস্কতিক অঙ্গীকার বহন করে চলেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে এই মেলার আয়োজন করে চলেছি।