• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

সেমিনারে বক্তারা

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শান্তি প্রতিষ্ঠার অমিয় বাণী

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

জাতীয় জাদুঘরে ‘জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও শোষণমুক্ত পৃথিবী গঠনের দার্শনিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা -সংবাদ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ পর্যালোচনায় প্রস্ফুটিত হয় একজন আদর্শ বিশ্বনেতার প্রতিরূপ- একটি নাম, একটি ইতিহাস। ৪৫ বছর পর আজও বিশ্ব পরিক্রমায় সে বার্তা প্রাণবন্ত ন্যায়-সংগ্রামের প্রতীকরূপে। জনম জনম ধরে বজ্রকণ্ঠের সে অমেয় শান্তির বাণী বিশ্ববাসীর জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার পাঞ্জেরী হয়ে থাকবে।

গতকাল জাতীয় জাদুঘর কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে ‘২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ : জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও শোষণমুক্ত পৃথিবী গঠনের দার্শনিক ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারের মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়ক ও বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদের সভাপতিত্বে সেমিনারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. আবদুল মজিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধে ওয়ালিউর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৭৪ সাল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবশনে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তির বার্তা নিয়ে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমাদের স্বাধীনতাপূর্ব কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার। প্রথমত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয়ত ভিচি সরকার, তৃতীয়ত আলজেরিয়ার যুদ্ধ, চতুর্থত ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পঞ্চমত শীতলযুদ্ধ। বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বিশ্বনেতারা তাকিয়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর দিকে। তিনি শুধু মাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রতিনিধিত্ব করেননি। বিশ্বের সব অঞ্চলের নিষ্পেষিত মানুষের পক্ষে কথা, নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন বৈষম্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত বিশ্বদারিদ্র্যের কথা। সে সময় বিশ্ব ব্যবস্থার চলমান সমস্যার একটি অর্থনৈতিক কারণ ও বিশ্লেষণ আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাষণে খুঁজে পাই। খুঁজে পাই তার একটি সমাধানের উপায়ও।

ওয়ালিউর রহমান আরও বলেন, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ পর্যালোচনায় প্রস্ফুটিত হয় একজন আদর্শ বিশ্বনেতার প্রতিরূপ- একটি নাম, একটি ইতিহাস। ৪৫ বছর পরও আজকের বিশ্ব পরিক্রমায় সে বার্তা প্রাণবন্ত ন্যায়-সংগ্রামের প্রতীকরূপে। বজ্রকন্ঠের সে অমীয় শান্তির বাণী বিশ্ববাসীর জন্য শান্তিপ্রতিষ্ঠার পাঞ্জেরী হয়ে থাকবে জনম জনম ধরে। আর আমরা! গর্ব ভরে বলবো, এ-ই আমাদের বঙ্গবন্ধু! এ-ই আমাদের জাতির পিতা! নাম তার শেখ মুজিবুর রহমান।

ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। দুঃখী মানুষের মুখে হাঁসি ফুটানো ছিল তার দর্শন ও তার আদর্শ। ২৫ সেপ্টেম্বের ভাষণ ছিল বিশ্বের শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি সামগ্রিক বিশ্বকে তুলে ধরেছিলেন তার মানবতাবাদী কণ্ঠস্বরের মধ্য দিয়ে। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলেছেন, বলেছেন বিশ্ব শান্তির কথা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান করেছেন। বিশ্ব শান্তির জন্য তার দিকনির্দেশনা ও প্রখর দূরদর্শিতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে তার ভাষণে। নিপিরিত, বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলার মধ্যে তার দার্শনিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বঙ্গবন্ধু মানবজাতির পার্লামেন্ট বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ব শান্তি ও মানবতা ছিল তার ভাষণের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব মুক্তির কথা বলেন। ঐতিহাসিক এই ভাষণের প্রত্যেকটা কথা ছিল প্রাসঙ্গিক। বাঙালি জাতির ন্যায় বিশ্বের শোষিত, নিপীড়িত অধিকার বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছিলেন তার ভাষণের মাধ্যমে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময় ছিল আমাদের দেশে ও জাতির জন্য ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। বিশ্বের শোষিত মানুষকে নিয়ে ভাবতেন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তিনি। সর্বোপরি পৃথিবীর মানুষের শান্তির কথা বলতেন। আজকে আমাদের দেশের যে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে তার মূলে রয়েছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু।

সভাপতির বক্তব্যে রিয়াজ আহম্মদ বলেন, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা যখন জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন সারা বাংলাদেশ গর্বিত হয়ে উঠেছিল সেদিন। যে ভাষণে তিনি তার দেশ ও তার জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, দৃঢ়তা এবং প্রত্যয়ের কথা সকলকে শুনিয়ে এই জাতিকে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছিলেন। তিনি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে ছিলেন। বাঙালির প্রেরণার নাম। এজন্য বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক, আদর্শ মতাদর্শ আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।