• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সুনামগঞ্জে

ছেলে হত্যা মামলায় মাসহ ২ জনের মৃত্যুদন্ড

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

| ঢাকা , বুধবার, ০৩ এপ্রিল ২০১৯

সুনামগঞ্জে ছেলে সোয়াইবুর রহমান হত্যা মামলায় মা সিতারা বেগম (৩৭) ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে (৩৫) মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত প্রেমিক বারিক মিয়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে ও ঘাতক মা সিতারা বেগম একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

সূত্র জানায়, উপজেলা চিতুলিয় গ্রামের রফিকুল ইসলাম ১৫-১৬ বছর যাবৎ সৌদি আরব কাজ করছেন। এ সুযোগে তার স্ত্রী সিতারা বেগম একই গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে বারিক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। ২০১৪ সালের ১৪ আক্টোবর সিতারা বেগমকে প্রেমিক বারিকের সঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলে সিতারা বেগমের শিশু ছেলে সোয়াইবুর রহমান। এ সময় শিশুটি এ ঘটনা তার বাবার কাছে বলে দেবে এমন কথায় তার মা ও মায়ের প্রেমিক একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের কিশোর ছেলে সাবুল মিয়াকে দিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় শিশু সোয়াইবুরকে ফুসলিয়ে গ্রামের হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে নিয়ে যায়। পরে শিশু সোয়াইবুরের ঘাতক মা ও তার প্রেমিক বারিক মিলে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। পরে স্বজনরা শিশুটিকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ১৫ অক্টোবর শিশু সোয়াইবুরের চাচাত ভাই বাদী হয়ে ঘাতক মা সিতারা বেগম, প্রেমিক বারিক ও কিশোর সাবুলকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল আদালত ঘাতক মা সিতারা বেগম ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে আসামি বারিককে কারাগারে এবং ঘাতক সিতারা বেগম পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। অপর আসামি সাবুল কিশোর হওয়ায় তার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।