• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

৪ ডিসেম্বর বস্ত্র দিবস পালন হবে

এসএমই নীতিমালা অনুমোদন

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

প্রতিবছর ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস পালন হবে। এজন্য এসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দিবসটি উদযাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে তা অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছর ৪ ডিসেম্বর ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ পালিত হবে। এভাবে দিবস পালন মানে মানুষকে একটু সেনসিটাইজড করা। মানুষ স্মরণ করবে আজ বস্ত্র দিবস। এজন্য আমাদের কিছু করণীয় আছে, আমাদের রপ্তানি আয় সবচেয়ে বেশি বস্ত্র থেকেই পাই।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘পাট দিবস মার্চের একটা তারিখে (৬ মার্চ) আছে। মার্চ হচ্ছে স্বাধীনতার মাস; আর ডিসেম্বর হচ্ছে বিজয়ের মাস, দুটো মিলে ওনারা (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়), ওনারা স্বাধীনতা ও বিজয়কে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চান।’ এসএমই নীতিমালা অনুমোদন :

এসএমইখাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং অন্যান্য সুবিধা সহজীকরণের একটি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

‘এসএমই নীতিমালা-২০১৯’ এর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান হলো প্রায় ২৫ শতাংশ। এসএমই’র বাইরে মাইক্রো এবং কুটিরশিল্পও যুক্ত করা হয়েছে। মাইক্রো, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মিলে এসএমই। মোটামুটি সারা পৃথিবীতেই এভাবেই এসএমই গণ্য করা হয়।’

ছয়টি উদ্দেশ্য সামনে রেখে নীতিমালার খসড়া করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, ব্যবসায় সহযোগিতা এবং তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি।’ এই নীতিমালা ২০১৯-২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর করা হবে বলে জানানা মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

নীতিমালা বাস্তবায়ন কৌশলের বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমইখাতের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এসএমই খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। এই ফান্ড চালু হলে মর্টগেজ থাকবে না, অর্থপ্রাপ্তি সহজ হবে। সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।

পাশাপাশি নীতিমালায় নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (স্টার্টআপ) করার ক্ষেত্রে সহায়তা এবং অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

এসব নীতি-কৌশল বাস্তবায়নের জন্য দুই ধরনের পর্ষদ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন ‘শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ জনের পর্ষদে প্রতিমন্ত্রী সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বেসরকারিখাতের পাঁচজন প্রতিনিধি এবং সচিবের নেতৃত্বে পর্ষদে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৯ জন সদস্য থাকবেন।

নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা বলা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঋণ দেয়া, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুদ্ধকরণ এবং বাজার সংযোগে সুযোগ বৃদ্ধি করা।

এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নীতিমালায় ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউটসোর্সিং ও আইটিভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসএমইদের সহায়তা প্রদান, টেকসইয়ের জন্য ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়। এসএমই তথ্যভা-ার তৈরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমইদের উৎসাহিতকরণ, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসএমইদের প্রণোদনা দেয়া, পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তারা এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যাংক থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পায় বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩৬টি অ্যাকটিভিটিজ ও ৬২টি কৌশল আছে। সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বলে দেয়া রয়েছে কী কী অর্জন করতে হবে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৫ সালে এসএমইখাতে জিডিপিতে অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে। এসএমই’র জন্য ২০০৫ সালে একটি কৌশল ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এবারই প্রথম নীতিমালা হচ্ছে।