• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি

স্মারকলিপি উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে পিএসের হাতে

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর ও বেরোবি প্রতিনিধি

| ঢাকা , শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিতি, নিয়োগ ও বাছাই বোর্ড, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির সভাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সভা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষক সমিতি তাদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত স্মারক লিপি উপাচার্যের কাছে প্রদান করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ার স্মারকলিপি দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করেছে উপাচার্য পদে যোগদানের পর থেকে গত প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন এবং রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা হয়েও আবু হেনা মোস্তফা কামাল দীর্ঘ ধরে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন। তার ফলাফল স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার শিরোনাম হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছানোর ফলে শিক্ষক সমিতি গত ৬ অক্টোবর সমিতির সভায় উপস্থিত সদস্যরা উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি তাদের জানানোর জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে উপাচার্য শিক্ষক সমিতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে আবারও শিক্ষক সমিতি গত ৪ নভেম্বর তারিখে আবারও সভা করে দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যকে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই আলোকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষক সমিতি দাবি-দাওয়া সম্বলিত চিঠি উপাচার্য অনুপস্থিত থাকার কারণে তার পিএস আমিনুর রহমানের কাছে প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্য এ প্রতিনিধিকে জানান উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ প্রায় তিন বছর হতে চলল উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকছেন। তিনি বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিপপের কাজ করেন। তার ইচ্ছা মতো মাসে কয়েকদিন ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন। গত ২০১৮ সালে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১শ’ দিনের মতো তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন আর ২৬৫ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পাসে তার উপস্থিতিটা হয় সকালে না হয় দুপুরের বিমানে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন আবার বিকেলের বিমানে ঢাকায় চলে যান। গত বছর তিনি সর্বোচ্চ ১৫ দিন রাত কাটিয়েছেন ক্যাম্পাসে তার নিজস্ব বাস ভবনে। অথচ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দান করেছিলেন তার প্রধান শর্ত ছিল যে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু তিনি নিয়োগের প্রধান শর্ত পালন করছেন না। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সভা সেখানেই করেন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঢাকায় যেতে হয়। অথচ ক্যাম্পাসেই সিন্ডিকেট সভাসহ সব সভা করার জন্য সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো রয়েছে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত সব সভা চাকরি প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ঢাকায় নেন। ফলে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে অন্যদিকে নিয়োগের সচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলেন উপাচার্যের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির বিষয়টি শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভা না করে ঢাকায় করার কারণে সিন্ডিকেটের দুই সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক অধ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ার ও অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিগত বেশ কয়েকটি সভা বয়কট করেছেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অচিরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছে শিক্ষক সমিতি বিষয়টি একাধিক শিক্ষক নেতা নিশ্চিত করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজি মাযহারুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা দাবি দাওয়া সম্বলিত স্মারক লিপি উপাচার্যের কাছে বৃহস্পতিবার দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু তিনি ক্যাম্পাসে না থাকায় তার পিএসকে দিয়ে এসেছি। পরবর্তী করনীয় নিয়ে শিক্ষক সমিতির সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সিন্ডিকেট সভা বয়কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা উপাচার্যকে বলেছি সভা ক্যাম্পাসে করতে তিনি না করায় আমরা সভায় যাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।