• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

স্মরণসভায় বক্তারা

আনোয়ার হোসেন ছিলেন ক্যামেরার যোদ্ধা

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

আনোয়ার হোসেন ছিলেন ক্যামেরার যোদ্ধা। ক্যামেরার ভাষাতেই খুঁজেছিলেন মুক্তির কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করেছিলেন সেই সময়কার দুর্লভ মুহূর্তের অনেক ছবি। গত ১ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই কিংবদন্তী। স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে গুণী এই মুক্তিযোদ্ধা ও আলোকচিত্রীকে যৌথভাবে স্মরণ করেছে শিল্পকলা একাডেমি, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম। শনিবার সন্ধ্যায় একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই স্মরণানুষ্ঠানে প্রখ্যাত এই আলোকচিত্রীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’র নির্মাতা মসিহউদ্দিন শাকের, শিল্প সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদসহ আলোকচিত্র ও ফিল্ম সোসাইটির কর্মীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আনোয়ার হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, বুয়েটে পড়াকালীন দেখতাম একটা ছেলে সময় পেলেই ছবি তোলে। পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আনোয়ার হোসেন। ছবি তুলে তিনি আমাদের দেখাতেন। কি চমৎকার সেসব ছবি। এসব ছবিতে তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। ৬৭ সালে আমি চলচ্চিত্র আন্দোলনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তখন আনোয়ার হোসেনও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। যখন ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন তার পড়ালেখা শেষ হয়। তিনি আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। পয়সার অভাবে যখন ছবির কাজ থামিয়ে দিতে হতো; তখনও তিনি আমাদের পাশে একাত্ম হয়ে থেকেছেন।

মঈনুদ্দীন খালেদ বলেন, তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় আলিয়ঁস ফ্রসেজে। তিনি প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে আমার চমৎকার সম্পর্ক ছিল। আনোয়ার আমাদের মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে তার জীবনী লেখা উচিত।

বাবার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করার জন্য উপস্থিত সবার কাছে অনুরোধ করেন ছেলে আকাশ হোসেন ও মেঘদূত হোসেন।

১৯৪৮ সালের ৬ অক্টোবর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিদ্যায় শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্র শিল্পী পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছরে তিনি জাপানে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্রশিল্পীর স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘পুরস্কার’, ‘দহন’, ‘হুলিয়া’, ‘চাকা’, ‘অন্য জীবন’, ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ‘লাল সালু’, ‘লালন’, ‘শ্যামল ছায়া’সহ এমন অনেক অনন্য চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন আনোয়ার হোসেন।