• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

টাইমমেশিন

মিনতি অধিকারি

| ঢাকা , শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

image

কার্তিকের শেষ। নতুন ধানে হবে নবান্ন উৎসব বাংলার ঘরে ঘরে। সর্বত্র খুশির আগাম সুর। কিন্তু সুর যেন অতি করুণ। কারণ বাংলার গ্রামজুড়ে এখন দারুণ দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। কারণ বুলবুলের আক্রমণ। ধানের অঞ্চল বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ ক্ষেতি জমির ধানই তলিয়ে গেছে বানের জলে। তদুপরি কি এক অদ্ভুত প্রাণীর আক্রমণ দেখা দেয় দেশে মাঝেমাঝেই, নাম তার সিন্ডিকেট। হঠাৎ করেই যে কোনো দ্রব্যমূল্য ধাঁ করে আকাশ ছুঁয়ে যায় তাদের দৌলতে। এবার বেড়েছে পেয়াঁজের মূল্য, কিলোপ্রতি ২৫০ টাকা হয়েছে বাড়তে বাড়তে। অবশ্য দাম শুনে কারো অজ্ঞান হবার খবর এখনো পাওয়া যায়নি। একটি মাঝারি সাইজের ইলিশের দাম ১০০ টাকা হয়েছে শুনে এক বৃদ্ধ বাজারের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল বছর দশেক আগে। কেননা তার কৈশোরে ওই মাপের একটা ইলিশের দাম পটুয়াখালী বাজারে ছিল এক সিকি মানে চার আনা, এক হালি ইলিশ এক টাকা! এখন সেই ১০০ টাকার ইলিশ ১০০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে বোধ হয়। কেননা এখন আর কাউকে দাম শুনে ফিট-টিট হতে শোনা যায় না।

ইস্কুল থেকে ফিরছে মুকু আর রুকু দুই বন্ধু। মুকুল বোস আর রুকুনুদ্দিন খান। গলাচিপা উপজেলার পঞ্চবটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ওরা।

-জানিস রুকু, এবার পরীক্ষার পর কোথাও যাওয়া হবে না আমাদের কোথাও না। বাবার বারণ।

-বলিস কিরে, কোথাও যাবি না। বিদেশে কত্ত বড় বড় আত্মীয়স্বজন রয়েছে তোদের।

-না রে! বাবা সবাইকে বলে দিয়েছেন, দেশে তুফান হয়েছে, এবার কেউ কোথাও আনন্দভ্রমণে যাবে না। বরং সেই পয়সা চরাঞ্চলের মানুষদের দেয়া হবে। বিদেশের আত্মীয়স্বজনদেরও বাবা বলেছেন সাহায্যের হাত বাড়াতে। আর মেজদার অস্ট্রেলিয়ান শ্বশুর-শাশুড়ি, শালা-শালীরা এবার খুব আশা করে ছিল বাংলাদেশের যাত্রাপালা দেখবার। তা তারাও বুলবুলের কথা শুনে এবার আসছেন না, বরং মেজদার হাতে চাঁদা তুলে বেশ কিছু ডলার দিচ্ছেন গরিব লোকদের জন্য।

-এই রে শুনতে পাচ্ছিস, টিক্ টিক্ টিক্ টিক্ শব্দ! মনে হয় কেউ হাতের ঘড়ি হারিয়েছে।

-হ্যাঁ, তাই তো। ওই তো, ওই করমচা ঝোঁপের আড়াল থেকে শব্দটা আসছে। চলতো দেখি।

-ওরে ব্বাস! ঘড়ি নয় রে, ঘড়ি নয়। টাইমবোমা, সেদিন টিভিতে দেখলাম, ঠিক তেমনি। বলেই একলাফে মুকু রাস্তায় চলে আসে। রুকুও ভড়কে গিয়ে ফিরে আসছে, এমন সময় ওরা ঘড়িটির করুন কণ্ঠ শুনতে পেল।

-বোমা না ভাই, আমি টাইমমেশিন।

-টাইমমেশিন! দু’জনে এগিয়ে যায়। মুকু হাতে তুলে নেয় যন্ত্রটাকে। ঘড়ির মতো চেহারা, কাঁটা আছে দুটো। ১ থেকে ২১ পর্যন্ত ঘর কাটা আছে।

-তা, টাইমমেশিন তুমি মানুষের মতো করে কথা বলছ কী করে?

-আমি সব বুঝি, সব পারি, পারি না শুধু মরা মানুষ জ্যান্ত করতে, হে হে।

-তা তোমার কাজ কি গো টাইমমেশিন? তুমি কি কাজ জানো?

-বলছি শোন, আমি তোমাদেরকে ইচ্ছে করলে পৃথিবীর আদি যুগে নিয়ে যেতে পারি; আবার এখানে ফিরিয়ে আনতেও পারি। তাছাড়া আমি যখন যেখানে থাকি, সেখানকার সব নাড়ি-নক্ষত্র মুহূর্তে জানতে পারি।

-ওরে বা-বা, তুমিতো দেখছি মস্ত প-িত! তা টাইমমেশিন ভাই, তুমি এখানে আসলে কী করে?

-মঙ্গলগ্রহের বিজ্ঞানীরা টাইমমেশিন তৈরি করেছে ইদানীং। টাইমমেশিন ঘুরিয়ে শতাব্দী পার হওয়া যায়। তো বিজ্ঞানী খৎস এমন ঘুরান দিল একটি মেশিনে যেÑ তা এমন সময়ে গিয়ে পৌঁছল যে, মঙ্গল গ্রহ ভন্ ভন্ করে ঘুরতে লাগল। আর টাইম মেশিনগুলো ছিটকে কে কোথায় চলে গেল! আমিও চলে এলাম বাংলাদেশে। তা আমাকে এখন তোল ভাই, গত দু’দিনের বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে তেমন জোর নাই।

-মুকু টাইমমেশিনটি রুকুর হাতে দেয়, তুই তোর পড়ার ঘরে লুকিয়ে রেখে দে।

সামনে বৃত্তি পরীক্ষা। ইতিহাস নিয়েই যত ভয় মুকুর। শায়েস্তাখান মোঘল আমলে বাংলার সুবেদার ছিলেন দু’দফায় সর্বমোট ২২ বছর। প্রথম ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার ১৬৮০-১৬৮৮ সাল পর্যন্ত। তার শাসন আমলে বাংলাদেশে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে তখন বিশাল হাট বসত। পড়তে পড়তে থ হয়ে যায় মুকু। টাকায় আ-ট-ম-ণ চাল! আর পেয়াঁজ, পেঁয়াজ কত করে? শায়েস্তাখানের আমালÑ ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরÑ এক টাকায় আট মণ চালÑ টাইমমেশিন। তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে মুকু, খাটের নিচ থেকে মাটির ব্যাংকটি বগলে নিয়ে দৌড়ে রুকুদের বাড়ি যায় মুকুÑ রুকু তোর মাটির ব্যাংকটি নিয়ে আয়, আর টাইমমেশিনটা বের কর, জলদি।

রুকু মুকুর ভাব-ভঙ্গি দেখে আর কোনো কথা না বলে টাইমমেশিন আর মাটির ব্যাংকটি বের করে। মাটির ব্যাংক ভেঙে ফেলে দু’জনে। মোট ৫শ’ টাকা। টাইমমেশিনটি কাছে এনে বলে মুকুÑ টাইমমেশিন ভাই, তুমি তো জ্ঞানী লোক, আর অনেক কাজের লোক। আমরা একটি বিষয়ে তোমার সাহায্য চাই, করবে ভাই একটু সাহায্য?

-মানুষের মঙ্গল হয় এমন কাজে অবশ্যই সাহায্য পাবে। তোমাদের দেখে তো ভালো মানুষ বলেই মনে হয়, বল, কি চাও।

-ভাই তুমি আমাদের শায়েস্তা খানের আমলে নিয়ে যাবে? আবার আমাদের বর্তমান সময়ে ফিরিয়ে আনবে?

-তা আমরা আজ রাতের মধ্যেই চাল-ডাল সব কিনতে চাই, তুমি আমাদের নিয়ে চল।

-তাহলে আমার বড় কাঁটাটি ঘুরিয়ে ১৬-এর ঘরে নিয়ে যাও, তারপর ছোট কাঁটাটি ছোট ঘর ৬-৭ এর মধ্যে স্থাপন করে উপরের লাল বোতামটিতে জোরে টিপ দাও। কিন্তু বুড়িগঙ্গার ধারে আমিনবাজারে কী করে যাবে, আর কী করেই বা আবার এখানে ফিরে আসবে! আমার কর্ম শুধু সময় বা কাল পাড়ি দেয়া, আমি তো স্থান পাড়ি দিতে পারব না!

-তাহলে কী হবে ভাই! কান্নায় ভেঙে পরে রুকু মুকু।

-হু-উ-উ-উ-ম। আমি হনুমান, করতে পারি এক সাগর জল পান। করতে পারি তোমাদের মুশকিল আ-ছা-ন।

রুকু মুকু ঘাড় ফিরিয়ে দেখে ওদের পিছনে মস্ত এক হনুমান এসে দাঁড়িয়েছে।

-কি মুশকিল আছান করতে পার তুমি আমাদের, নাকি ইয়ার্কি করতে এসেছো। রেগে মেগে ধমক লাগায় মুকু হনুমানকে।

-না, হে বন্ধু, না। বুড়িগঙ্গার ধারে আমিনবাজারে কী করে যাবে আর কী করেই বা আবার এখানে ফিরে আসবে, এই তো তোমাদের সমস্যা! তা টেনশন কেন করছ বন্ধু, আমি তো আছি নাকি! আমার পিঠে চড়ে তোমরা আমিনবাজারে যাবে, আবার সদায়-পাতি কিনে এখানে ফিরে আসবে। তোমাদের সমস্যা শুনে টাইমমেশিন ত্রেতা যুগ থেকেই আমাকে নিয়ে এলো যে। মেলা সময় নষ্ট হয়েছে, এবার চড়তো পিঠে।

দেখতে দেখতে হনুমান বিশাল দেহ ধারণ করল। রুকু মুকু অবাক হয়ে দেখল, ওরে ব্বাস! টাইমমেশিনটি হাতে নিয়ে ওরা হনুমানের পিঠে চড়ে বসল আর হনুমান ওদের তিনজনকে পিঠে নিয়ে দিল লাফ। ওরা চোখের পলকে চলে এলো আমিনবাজারে। টাকার থলিতে হাত দিয়ে অবাক হয়ে গেল রুকু।

-ওরে ব্বাস! কাগজের যা নোট আর পাঁচ টাকা, দু’টাকা আর এক টাকার যত কয়েন ছিল ওদের কাছে তা সব রূপার মুদ্রায় পরিণত হয়ে গেছে।

নিশ্চিন্ত মনে রুকু মুকু চাল, ডাল, নূন, পেঁয়াজ আর তেলের ছোট্ট বোতল কিনল। চটের ছোট্ট থলে কিনল। এবার হনুমান তার আকার আরো বড় করে ফেলল, যেন একটি ছোটখাটো হেলিকপ্টার, যা রিলিফ দেয়ার সময় ব্যবহার করা হয়! রুকু টাইমমেশিনের বড় কাঁটাটি ঘুরিয়ে ২০-এর ঘরে নিয়ে, তারপর ছোট কাঁটাটি ছোট ঘর ৯-এর উপর স্থাপন করে উপরের লাল বোতামটিতে জোরে টিপ দিল। আর হনুমান ওদের পিঠে নিয়ে সদায়-পাতিসহ দিল উল্টো লাফ। ওরা চোখের পলকে চলে এলো রুকুদের উঠোনে। চাল-ডাল তেল-নূন পেঁয়াজ ভাগ করে প্যাকেটভর্তি করে ওরা আবার হনুমানের পিঠে চেপে টাইমমেশিন নিয়ে রওয়ানা হলো। টাইমমেশিন একেকটা বাড়ির নাম বলে দেয়, দেখিয়ে দেয়, আর হনুমান হুম করে লাফ দিয়ে একেক বাড়ির উঠোনে লাফিয়ে পড়ে। আর রুকু মুকু চাল-ডাল, নূন, পেঁয়াজ আর তেলের ছোট্ট বোতল একেকটি ঘরের সামনে রেখে আসে। সকালে উঠেই যখন ওরা ঘরের সামনে চাল-ডাল পেঁয়াজ পাবে, কী খুশিই না হবে, ভেবে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে রুকু মুকু।

এভাবে রুকু মুকু টাইমমেশিন আর বীর হনুমানের সাহায্যে দরিদ্র গ্রামবাসীদের ক্ষুধার আক্রমণ থেকে বাঁচায়। কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সংস্থাগুলোও এগিয়ে আসে। ত্রাণ মিশন শেষে একদিন টাইমমেশিন করুণ কন্ঠে বলে, ভাই রুকু মুকু, আমাকে করমচা গাছের পেছনে দেড় হাত গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখ, আমার চার্জ ফুরিয়ে এসেছে। আর্দিং এ-ই হয় আমার চার্জিং। যথাসময়ে আবার দেখা হবে, গুডবাই, বলেই টাইমমেশিনের কথা একদম বন্ধ হয়ে গেল। ওর কথামতো রুকু মুকু গর্ত খুঁড়ে ওর আর্দিংয়ের ব্যবস্থা করে দিল। হনুমানও চিঁহি চিঁহি গলায় বলে, আমার জন্যও একটি ছোট্ট গর্ত খোঁড়, ঢুকে পড়ি। বলতে বলতেই হনুমান একটি ছোট্ট ইঁদুরের আকার ধারণ করল, আর সুরুত করে গর্তে ঢুকে পড়ল। দু’মাস পরে বৃত্তি পরীক্ষায় টাইমমেশিনের ওপর রচনা লিখে রুকু মুকু টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেল। রুকু মুকু ভাবল, টাকা আর ঘুড্ডি, লাটাই কিনে খরচ করা যাবে না। আগামী কার্তিকের জন্য রেখে দিতে হবে।

  • খেজুর রস

    আব্দুস সালাম

    newsimage

    তোমরা সবাই জানো বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতি দুই মাস পরপর এ ঋতুর

  • হেমন্তিকা

    গাজী মুশফিকুর রহমান লিটন

    হেমন্তিকা এলো ফিরে ফুল ফসলের ঘ্রাণে আনন্দের এক বান ডেকেছে তাই তো সবার প্রাণে। মাঠের বুকে

  • ‘হেমন্তে আজ’

    হাসান মাসুদ

    হেমন্তে আজ মন হারিয়ে বন হারিয়ে পথ, ফুল পাখিরা খেলছে খেলা মেলছে সব

  • ভোরের শিশির

    নীলিমা শামীম

    শিশির ভেজা দূর্বাঘাসে মন ময়ূরি হাঁসে, স্নিগ্ধ সকাল ভেজা কেশে আনমনা আবেশে! লাল হলুদে মেলামেশা উচ্ছ্বসিত আঁখি, দুষ্টু

  • পাকা ধানের খেলা

    মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

    আয়রে দেলু আয়রে রুমি এক সাথে সব আয়, হেমন্তের ওই পাকা ধানে ডাকছে যেন তায়। হেমন্তে

  • সোনালি ফসল

    নাহিদ নজরুল

    মাঠে মাঠে এসে গেছে সোনালি ফসল তাই আজ কৃষকেরা খুবই চঞ্চল। পান চুন মুখে

  • ‘শীত এলো রে’

    জিল্লুর রহমান পাটোয়ারী

    শীত এলো রে খুকির গাঁয়ে, হরেক রকম সাজ- ঢাক ঢোলের বাজনা বাজে, ঐ

  • শীত সকালে

    ইবরাহীম আদহাম

    শীত সকালে গাছের শাখে হাসে কুসুম কুঁড়ি ঝিরিঝিরি হিমেল সমীর মন করে নেয় চুরি।

  • নবান্নের বাঁশি

    হামীম রায়হান

    আমন মাঠে কাকতাড়ুয়া দিচ্ছে কেমন হাসি! ঘাসের ডগায় জমল শিশির, দেখো গাঁয়ে আসি! পাড়ায় পাড়ায় খুশির

  • শীতের ছবি

    কৌশিক সূত্রধর

    সবুজ ঘাসে শিশির মেখে ধূসর রঙে প্রকৃতি এঁকে শীত এসেছে দেশে, হিমেল পরশ দখিন বায়ে হিম

  • শীতের জামা

    ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান

    আসছে নাকি শীতের বুড়ি হিম-কুয়াশার চাদর পরে বাবা দিলেন উলের জামা আমাকে খুব আদর করে। শীতের

  • ওদের শীতকাল

    পলাশ কুণ্ডু

    কুয়াশার ঠাণ্ডা চাদর গায়ে জড়িয়েছে গাছপালা পাখা গুটিয়ে বসে আছে পাখিরদল দিনের বেলা। হিংস্র

  • শীতের রাত

    আবু সাইদ

    ফড়িং ডানায় সওয়ার হয়ে বিকেল গেল উড়ে- সাঁঝের ঠোটে লাল গোধূলী এলো চাদর মুড়ে। পাখির

  • হেমন্ত ঋতু

    কাজী মারুফ

    বছর ঘুরে ফিরে এলো হেমন্ত রূপ রানি অঙ্গে ভরা রূপের বাহার শুষ্ক বদনখানি। এই ঋতুতে