• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না’

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

image

আয়াতুল্লাহি খামেনী

ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে গুপ্ত হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন যুদ্ধ চান না তিনি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন জানে এ ধরনের সংঘর্ষ তার স্বার্থের অনুকূলে যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে বিষপান করা।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, পার্লামেন্ট সদস্যসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং আসলে কোন যুদ্ধই হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সংঘাতে শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটতে বাধ্য হবে। আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না, তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না।’ দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে তিনি ‘আকাক্সক্ষার সংঘাত’ উল্লেখ করে বলেন, এ সংঘাতে শেষপর্যন্ত ইরান বিজয়ীর বেশে উন্নত শির নিয়ে বেরিয়ে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে আলোচনার যে প্রস্তাব দিচ্ছেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ খামেনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা বিষপানের সমতুল্য। আলোচনা মানে দর কষাকষি করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিষয়ে দর কষাকষি করতে চায় সেগুলো আমাদের শক্তিমত্তার উৎস। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে তাদের আপত্তি। তারা চায় আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ফেলি যাতে তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা তাদের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাতে না পারি। কেউ বোকার স্বর্গে বাস করলে নিজের শক্তিমত্তার উৎস নিয়ে এমন আলোচনায় বসে। আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে প্রভাব বিস্তার করেছে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে চায়। এর অর্থ হচ্ছে, আলোচনায় বসে ইরান তার প্রভাব বলয় কমিয়ে ফেলুক। কাজেই দেখা যাচ্ছে, সুস্থ বোধসম্পন্ন মানুষের সঙ্গেও এসব বিষয় নিয়ে ইরান আলোচনায় বসতে পারে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনে তো সুস্থ মানুষ নেই। এরা কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষা বা চুক্তি মেনে চলার ধার ধারে না। এদের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।