• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

‘ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

image

আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উদ্যোগ (ডিটিটিআই) এর বৈঠক শুরু হবে। সেই বৈঠককে সামনে রেখে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন আশা প্রকাশ করেছে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাণিজ্য চলতি বছরের শেষে ১৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক উপমন্ত্রী এলেন এম লর্ড বলেছেন ভারতের সঙ্গে তার দেশ সেনাবাহিনী পর্যায়ে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এনডিটিভি।

আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ডিটিটিআইয়ের নবম বৈঠক। এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলেন এম লর্ডের। গত শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৮ সালে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা বাণিজ্য কার্যত শূন্য থাকলেও এই বছরের শেষে তা ১৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের ডিটিটিআই শুরুর আগে আমাদের অন্যতম প্রতিরক্ষা সহযোগী ভারতের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখতে আমি ব্যাপক আনন্দিত।’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এলেন এম লর্ড জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চলতি বছরের আগস্ট মাসে টায়ার -১ মর্যাদা দিয়েছে। এর ফলে দিল্লি আরও বেশি আমেরিকান কোম্পানির পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবে। তিনি জানিয়েছেন, এই সুযোগ ন্যাটো মিত্র জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পেয়ে থাকে। এর সবই সমমনাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উদার মনোভাবের উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও ২১টি পারমাণু চুল্লি নির্মাণ করবে দিল্লি

এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ২১টি পারমাণু চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। গত শুক্রবার দেশটির পারমাণু জ্বালানি সচিব কেএন ভিয়াস জানিয়েছেন, সাতটি চুল্লির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আরও ১৭টির নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (এনপিসিআইএল) এসব চুল্লি নির্মাণ করবে। গত বছর ২০৩০ সালের মধ্যে ২১টি পারমাণু চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে ভারতের পারমাণু জ্বালানি সংস্থা। এসব চুল্লির নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান পারমাণু জ্বালানি সচিব কেএন ভিয়াস। ভারতের এনার্জি ফোরামে কেএন ভিয়াস বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছি, সে কারণে নির্মাণ ব্যয় কমছে আর কাজে গতি আসছে।’ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতই প্রথম গবেষণা চুল্লি নির্মাণ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পারমাণু জ্বালানি খাতে ভারত পুরনো খেলোয়াড়। আমাদের শেখার পথ ছিল কষ্টসাধ্য কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা পারমাণু চুল্লির সংখ্যা ২২টি বাড়াতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি জানান, বর্তমানে পারমাণু জ্বালানির চুল্লির সংখ্যায় বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশ ভারত। ভারতের সামগ্রিক বিদ্যুৎ গ্রিডে পারমাণু বিদ্যুতের অবদান সীমিত। এর কারণ জানিয়ে কেএন ভিয়াস বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই এই জটিল প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা পেতে প্রাথমিকভাবে কিছু ছোট আকারের চুল্লি নির্মাণ করা হয়। এনার্জি ফোরামে অংশ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, পারমাণু জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে জনগণের মধ্যকার ভুল ধারণা ভাঙতে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর একটি উৎস হলো পারমাণু জ্বালানি। আর এটি মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপন সহজ করার একটি উপায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পারমাণু জ্বালানি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অনিল কাকোদকার বলেন, ইউরেনিয়াম আমদানি বাড়ালে পারমাণু কর্মসূচির আকার বাড়ানো যাবে পাশাপাশি বড় আকারে থোরিয়ামও মোতায়েন করা যাবে।