• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই

৮শ’ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি বিশ্ব নেতাদের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২০

image

উরসুলা ফন দেয়ার লিয়েন

প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব নেতারা ৮শ’ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে টিকা তৈরি, গবেষণা ও বণ্টন এবং চিকিৎসার সংশ্লিষ্ট অন্য সরঞ্জাম তৈরির জন্য এ তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বলে জানান ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন দেয়ার লিয়েন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন। তবে এ দলে নেই যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্স।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তহবিল সংগ্রহের এ প্রচেষ্টায় খোলা চিঠি দিয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতারা। আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে এ তহবিল সংগ্রহ করা হবে। বিশ্ব ব্যাংক, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ও ধনী ব্যক্তিরা এ প্রচেষ্টায় যুক্ত হবেন। এ তথ্য জানিয়ে বার্তা সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আয়োজিত এক ভিডিও সম্মেলনে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন দেয়ার লায়েন।

এ তহবিল গঠনের প্রচেষ্টায় সম্মেলনটির আয়োজকদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর বাইরের দেশগুলোসহ যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সৌদি আরব। ইউরোপীয় কমিশনসহ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালিও এদিনের সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। এদিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা লিয়েন বলেন, ‘বৈশ্বিক এ প্রচেষ্টায় প্রত্যেকেরই অর্থ সহায়তা করে অবদান রাখা উচিত।’ এ সময় ইইউ প্রধান উরসুলা বলেন, ‘মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় টিকা, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসার জন্য সামগ্রিকভাবে ৮০০ কোটি ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।’

ইউরোপীয় কমিশন করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে গবেষণার জন্য ১শ’ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উত্তরাঞ্চলের নর্ডিক দেশ নরওয়েও ঠিক একই পরিমাণ ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে, পশ্চিম ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, মধ্যপ্রাচ্যেও সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশ জার্মানি- প্রত্যেকে ৫০ কোটি ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্য দিচ্ছে ৩৮ দশমিক ৮ কোটি পাউন্ড।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ না নিলেও দেশটির পপ গায়িকা ম্যাডোনা ১০ লাখ ইউরো দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উরসুলা। তবে ৮০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় জানিয়ে ইইউ প্রধান বলেন, ভবিষ্যতের লড়াইয়ে আরও অর্থের দরকার হতে পারে। সম্মেলনে উরসুলা আরও বলেন ‘অংশীদাররা অনেক, কিন্তু লক্ষ্য একটাই : ভাইরাসকে পরাস্ত করা।’ সম্মেলনের সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টায় সব দেশকে এক হয়ে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ দিনের সম্মেলনে জাপান, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কিছু দেশের নেতারাও অংশ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না। চীনের পক্ষ থেকে অংশ নেন ইইউয়ে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত।

জাতিসংঘ সমর্থিত গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড সম্প্রতি একটি হিসাবে জানায়, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাথমিকভাবে ৮০০ কোটি ডলারের তহবিলের প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে করোনার টিকা নিয়ে গবেষণা, উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য। ২০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের চিকিৎসা খরচে। ৭৫ কোটি ডলার দরকার হবে ভাইরাস পরীক্ষার কিটের জন্য। আরও ৭৫ কোটি ডলার দরকার স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষা উপকরণের জন্য। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হাতে ১২৫ কোটি ডলার থাকা উচিত বলে মনে করে ওই মনিটরিং বোর্ড। যাতে দরিদ্র দেশগুলোকে এ তহবিল থেকে সহায়তা করা যায়।

কোভিড-১৯ আক্রান্তদের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরির দাবি ব্রিটিশ গবেষকদের : এদিকে করোনা মহামারী কালে বিশ্ববাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর জানাচ্ছে ব্রিটিশ এক গবেষণার ফলাফল। গবেষকদের দাবি, নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশের দেহেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে এ অ্যান্টিবডি তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইউমিনিটি) দিচ্ছে কিনা, কাক্সিক্ষত সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর জবাব পাওয়ার জন্য আরও অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের সোমবারের এক প্রতিবেদন যুক্তরাজ্যের গবেষকদের এ আবিষ্কারের কথা জানাল। পাঁচ মাস আগে চীনে মানবদেহে প্রথম নতুন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটার পর এখনও পর্যন্ত বিশ্বে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর এতে মারা গেছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যেই প্রায় ২ লাখ আক্রান্তের মধ্যে ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। গতকাল পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য মতে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে, ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৪ জন। আর মৃতের সংখ্যা হলো ২৮ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৪৪ জন।

অপরদিকে নতুন করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক টিকা না থাকায় এখনও সংক্রমণ এড়িয়ে থাকাই বাঁচার একমাত্র পথ। টিকা আবিষ্কারে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা জোরালো তৎপরতা চালালেও তা আসতে কমপক্ষে ১৮ মাস লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন নিরাশার মধ্যে মানুষের শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভাইরাস ঠেকানোর জন্য তৈরি হবে বলে আশা করছেন অনেকে।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গবেষকদের এ আবিষ্কারের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনাথন ভ্যান-টাম বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা রোগীদের পরীক্ষা করে বেশিরভাগের দেহেই অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটা এখন সাধারণভাবে বলা যায়, অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।’

মানবদেহে বাইরে থেকে কোন রোগজীবাণু বা ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ঢুকলে প্রাকৃতিকভাবেই দেহের নিজস্ব প্রতিরাধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তৈরি হয় অ্যান্টিবডি। যা বাইরে থেকে আসা জীবাণু বা প্যাথজেনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। যদি ব্যক্তির শরীরে ধারণ করার প্রতিরোধ ব্যবস্থা (অ্যাডাপটিভ ইমিউন সিসটেম) যথেষ্ট শক্তিশালী হয়, তবে কোন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গঠিত অ্যান্টিবডি ওই ভাইরাসকে নিজস্ব স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে। ফলে পুনরায় ওই একই ভাইরাসের আক্রমণ হলে অ্যান্টিবডি সহজেই ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে।

তবে প্রশ্ন হলো, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের শরীরে গঠিত অ্যান্টিবডি তাকে পরে আক্রান্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেবে কিনা? ওই সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনাথন ভ্যান-টাম বলেন, এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেয়ার জন্য তাদের আরও সময় লাগবে। এ অ্যান্টিবডির কার্যকর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করবে টিকা কীভাবে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা যাবে। এসময় উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক জানান, অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ডের ওষুধ কোম্পানি রোশের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারা।

তবে আক্রান্তদের দেহে অ্যান্টিবডি পেলেই তাকে ‘ইমিউনিটি’ না ভাবার জন্য ইতোমধ্যে সব দেশকে সতর্ক করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।