• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ৬ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

৮ কোটি অভিবাসী শ্রমিককে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেবে ভারত

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২০

image

করোনা মহামারী ঠেকাতে দেয়া লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, প্রায় ৮ কোটি অভিবাসী শ্রমিককে দুই মাস বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৩৫ বিলিয়ন রুপি। প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষিত ২০ লাখ কোটি রুপির আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এ খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে। আল-জাজিরা ।

ভারতে গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৩৪ জনের। ফলে এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫৪৯ জনে। এদিকে এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা বলেছে, ভারতে করোনাভাইরাসে বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন অভ্যন্তরীণ অভিবাসী শ্রমিকরা। এর জেরে বেশিরভাগ শ্রমিকই কাজ হারিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে তারা নিজ রাজ্যে ফেরত যেতে চাইছেন। যদিও ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। পরে শুধু শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল থেকে ভারত সরকার প্রায় ১০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয় করেছে ২৩ মিলিয়ন বেকারদের পেছনে। গ্রামে চাকরির নিশ্চয়তা প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

সিতারমন জানান, সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে করে শ্রমিকরা স্বল্পমূল্যে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন।

হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন ভারতীয় অর্থমন্ত্রী। এ প্রকল্পে ব্যবসায়ীরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘সারাদেশে মোটামুটি ৫০ লাখ স্ট্রিট ভেন্ডর রয়েছেন। তাদের জন্য এ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য খরচ হবে ৫ হাজার কোটি রুপি।’ সিতারমন আরও বলেন, কৃষিক্ষেত্রে প্রতি বছর ৯০ হাজার কোটি রুপি দেয় নাবার্ড। কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন খাতে সেই অর্থ সমবায় ও অন্য গ্রামীণ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেয়া হয়। এবার তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার আরও ৩০ হাজার কোটি রুপি দেবে নাবার্ড। এতে দেশের আড়াই কোটি কৃষক উপকৃত হবেন। এছাড়া মৎস্যচাষি ও পশুপালনকারীদেরও ‘কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে’র আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০ লাখ কোটি রুপির এই প্যাকেজের রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এ প্রণোদনা ভারতের জিডিপির প্রায় দশ শতাংশ। তিনি বিস্তারিত না জানালেও বলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পরে তা ঘোষণা করবেন।

তামিলনাড়ুর এক বাজার থেকেই ২৬শ’ করোনায় সংক্রমিত

এদিকে বাজারে মানুষের ভিড়ে কতটা উদ্বেগজনকহারে ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস সেটিই এবার দেখা গেল ভারতের তামিলনাড়ুতে। স্থানীয় একটি পাইকারি সবজি বাজারের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ২ হাজার ৬শ’ জনের ভাইরাস ‘পজিটিভ’ এসেছে। দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, রাজধানী চেন্নাইয়ে কোয়ামবেদুর এই বাজারকে এখন করোনা সংক্রমণের হটস্পট ঘোষণা করে কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়েছে। এনডিটিভি’কে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জে রাধাকৃষ্ণন জানান, বাজারের দোকানদার-খরিদ্দারসহ তাদের সংস্পর্শে আসা সবার ভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাতেই ২ হাজার ৬শ’ জন করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ হয়েছেন। এরই মধ্যে দেশটিতে ২ লাখ ৬০ হাজার জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এখনও অনেকেরই পরীক্ষার ফল আসা বাকি। তাতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজারটিতে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে অন্য এলাকার মতো এ বাজারেও সতর্কতা জারি ছিল। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই চলছে বাজার। ফলে বাজারের লোকজনের ভাইরাস পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় তামিলনাড়ু ভারতের সংক্রমিত রাজ্যের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে দেয়া কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, রাজ্যটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২২৭ জন। আর মৃতের সংখ্যা ৬৪। বস্তি ও ঘনবসতি এলাকায় সংক্রমণ ঠেকানোই এখন তামিলনাড়– প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।