• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট সম্পন্ন

৪৭ বছরের সম্পর্কে ইতি যুক্তরাজ্যের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ত্যাগের আগে ব্রিটিশ পতাকা হাতে ব্রেক্সিটপন্থি জনাথন বুলক

মহাদেশীয় জোট ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেয়া যুক্তরাজ্য ৪৭ বছর পর এ সম্পর্কের ইতি টানলো। গতকাল শুক্রবার ব্রোক্সিট কার্যকরের মধ্য দিয়ে ২৮ দেশের এ জোটটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করল যুক্তরাজ্য। ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রক্রিয়ায় ১৯৭৩ সালে এ জোটে যোগ দেয় ব্রিটেন । বিবিসি।

এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১১টায় (বাংলাদেশী সময় শনিবার ভোর পাঁচটায়) সম্পন্ন হয়। এর ঘণ্টাখানেক আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ‘নতুন যুগের ঊষালগ্নের’ আবাহন ঘোষণা করেন। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এ টোরি নেতা বলেন, ব্রেক্সিট কোন ‘শেষ নয়, বরং নতুন কিছুর শুরু’। এর আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ সময় জোটের বাকি ২৭ দেশের সঙ্গে যৌথ সম্পর্কচ্ছেদকে ‘সত্যিকারের জাতীয় পুনর্জাগরণ ও পরিবর্তনের মুহুর্ত’ হিসেবেও অভিহিত করার কথা তার।

এদিকে ব্রেক্সিট কার্যকরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিবিসি জানিয়েছে, ব্রেক্সিটকে স্মরণীয় করে রাখতে গতকাল সকালে সান্ডারল্যান্ডে জনসন একটি মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। ২০১৬ সালের গণভোটের ফল গণনার সময় সান্ডারল্যান্ডই প্রথম ব্রেক্সিটের পক্ষে তাদের সমর্থনের কথা জানায়। ইইউ জোটকে ‘আবেগঘন বিদায়’ জানাতে গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় হোয়াইটহলের সামনে ব্রেক্সিটবিরোধীরা কর্মসূচি পালন করেন। পরে ব্রেক্সিটপন্থিরা পার্লামেন্ট চত্বরে একত্রিত হয়ে ‘বন্ধনমুক্তি’ আনুষ্ঠানিকতা উদ্?যাপন করেন। এ সময় ডাউনিং স্ট্রিটে একটি ঘড়িতে বিচ্ছেদের ক্ষণগণনা চলে। হোয়াইটহলের আশপাশের ভবনগুলোতে বর্ণিল আলোকসজ্জার পাশাপাশি পার্লামেন্ট চত্বরের প্রতিটি খাম্বায় ইউনিয়ন জ্যাক ওড়ে। যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে স্মরণীয় করে রাখতে ৫০ পয়সার বিশেষ কয়েনও প্রকাশ করা হয় এদিন। ব্রেক্সিটের নির্ধারিত সময়ের পরপরই ব্রাসেলসের ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকা নামিয়ে ফেলার কথা। তবে ইইউয়ের জাদুঘরে একটি ইউনিয়ন জ্যাকের স্থান হতে পারেও বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ ব্রাসেলসের গ্রান্ড প্যালেসকে আলোকিত কার হয় লাল, সাদা ও নীল রঙে।

এদিকে ২০১৬ সালের গণভোটে জোটে থাকার পক্ষে রায় দেয়া স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে হয় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। এডিনবরায় পরে এক ভাষণে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ডকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে’ বলে স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জিওন মন্তব্য করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র ইউরোপীয় দেশ হিসেবে স্কটল্যান্ডের ভালো ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ আছে- তিনি এমনটাও বলতে পারেন বলে ধারণা বিবিসির। সংবাদ আরও জানিয়েছে, গতকাল ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যকার এতদিনের বেশিরভাগ চুক্তিই আরও বেশ কিছুদিন বহাল থাকবে। চলতি বছরের ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি ‘রূপান্তর কাল’ চলবে, এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইইউ তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা ঠিক করে নেবে। আগের সব চুক্তি পর্যালোচনা ও পরিবর্তনেরও সুযোগ থাকবে। এ সময়কালের ভেতরই যুক্তরাজ্য ইউরোপের জোটটির সঙ্গে একটি স্থায়ী অবাধ বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ইইউয়ের আগের আইনগুলোই বহাল থাকবে। এসব আইনের মধ্যে জোটের ভেতরকার সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের অবাধ চলাচলের বিষয়টিও রয়েছে। এদিকে দেশটি বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ব্রেক্সিটের প্রাক্কালে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্য যেন ‘অন্তর্মুখী’ না হয়ে ‘সত্যিকারের আন্তর্জাতিকতাবাদী, বৈচিত্র্যময় এবং বহির্মুখী’ দেশে পরিণত হয় তা নিশ্চিত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ শতাংশ জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রথমে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বিচ্ছেদ সম্পন্নের তারিখ ঠিক করে। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে ইইউয়ের চুক্তি পার্লামেন্টে কয়েক দফা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ব্রেক্সিট কার্যকরের এ সময়সীমা বাড়ানো হয়। মে পরে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে জনসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি হিসেবে পরিচিত এ টোরি নেতা কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন ডাকেন। ডিসেম্বরের ভোটে বিপুল জনসমর্থন লাভের পর তার সঙ্গে ইইউয়ের চুক্তিটিও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়।