• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

২০ বছর বয়সী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে এই হামলাকারী

হামলার নেপথ্য কারণ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে ভয়াবহ হামলাকারীদের একজন অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত। তার নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। ২৮ বছর বয়সী এই হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের অনুসারী ও জঙ্গি মানসিকতা পোষণ করতেন বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এক খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় হাজতবাস করতে হয়েছিল। সে শ্বেতাঙ্গ মৌলবাদী, ডানপন্থি ও সহিংস সন্ত্রাসী ছিল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধ সংক্রান্ত পুরনো রেকর্ড আছে গ্রাফটন শহরের এ বাসিন্দার। শরীর চর্চায় নিবেদিত এ হামলাকারী ২০০৯ সালের পর থেকে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। বর্বরোচিত এ হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। নৃশংস হামলাটির নিন্দা জানিয়েছে স্তম্ভিত বিশ্ববাসী।

গতকাল স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরে জুমার নামাজের সময় মসজিদ দুটিতে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার কথিত মেনিফেস্টো (ঘটনার কারণ) প্রকাশ করে। ফেসবুক পোস্টে ৭৩ পৃষ্ঠার ম্যানিফোস্টো প্রকাশ করেন ওই হামলাকারী। ওই ম্যানিফেস্টোতে তিনি তার ক্ষোভ, হামলার কারণসহ সে নিজেকে একজন ‘সাধারণ শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে। এসময় হামলাকারী আরও উল্লেখ করে, সে একটি ‘শ্রমিক শ্রেণীর স্বল্প-আয়ের পরিবারে জন্ম নিলেও... জনগণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’। ট্যারেন্টের অস্ত্র-সরঞ্জামে ছিল মুসলিম-বিদ্বেষী নানা শব্দ ও বাক্যে সাজানো।

হামলার নেপথ্য কারণ : হামলার কারণ হিসেবে মেনিফোস্টেতে ট্যারেন্ট উল্লেখ করেন, ‘ইউরোপের ভূমিতে অভিবাসীর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে ফেলতে সে এ হামলাটি চালিয়েছে।’ ট্যারেন্টের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টের হেডার ফটো হিসেবে যে ছবি রয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে শহরে বাস্তিল ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের ছবি দেখা যায়। সেদিন জনতার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় ৮৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ওই ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল জানিয়ে ট্যারেন্ট তার মেনিফেস্টোতে বলে, তিন মাস আগেই সে ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। মেনিফেস্টোতে অভিবাসীদের দিকে ইঙ্গিত করে সে আরও উল্লেখ করে, ‘ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের ভূমিতে বিদেশি ‘দখলদার’দের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ‘দখলদার’দের ওপর এ হামলা চালানো হচ্ছে।’ সে তার মেনিফেস্টোতে আরও বলে, ‘২০১৭ সালে সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা অকারলান্ডের নিহত হওয়ার ঘটনার শোধ নিতে এ হামলাটি চালানো হয়েছে। স্টকহোমের ওই ঘটনাটিই আমাকে প্রথম এ ধরনের হামলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, বিশেষ করে ওই ১১ বছর বয়সী মেয়েটির মৃত্যু। এব্বার মৃত্যু হয়েছে ‘দখলদার’দের হাতে...আমি এ ধরনের হামলা এড়িয়ে যেতে পারি না।’

ফ্রান্সের নিসে শহরের ঘটনাটিও তাকে হামলায় প্রেরণা যুগিয়েছে বলে মেনিফেস্টোতে উল্লেখ করে ট্যারেন্ট। যে অস্ত্র-সরঞ্জাম নিয়ে ট্যারেন্ট ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে সেখানে মুসলিমদের ওপর বিগত সাম্প্রদায়িক হামলার তথ্য তুলে ধরে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহমূলক বিভিন্ন শব্দ-বাক্য দেখা যায়।