• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

১০ বার ধরন পাল্টেছে নতুন করোনাভাইরাস

দুই বাঙালি গবেষকের দাবি

| ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২০

image

বৈশ্বিক মহামারী নতুন নভেল করোনাভাইরাস এখনও পর্যন্ত ১০বার নিজের ধরন পাল্টেছে (মিউটেশন) বলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এক ইনস্টিটিউটের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজ্যটির ওই ইনস্টিটিউটের দুই বাঙালি গবেষক জানিয়েছেন, এর মধ্যে ‘এ২এ’ নামের ধরনটিই বিশ্বজুড়ে অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ জনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ২০ হাজার ১৪৮ জন। অপরদিকে ১০ লাখ ৩০৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এক প্রতিবেদনে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল জেনোমিকসের (এনআইবিজি) পার্থপ্রতিম মজুমদার ও নিধান কুমার বিশ্বাস তাদের যৌথ গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানবদেহের ফুসফুসের কোষে দল বেঁধে হানা দিতে দক্ষ ‘এ২এ’ সংক্রমণ ও পরিণতি ডেকে আনার ক্ষেত্রেও বিশেষ পারদর্শী। এ গবেষণাটি শিগগিরই ভারতের কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) জার্নালে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল জেনোমিকসের এ গবেষণা বেশ কাজে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন করোনাভাইরাসের এ ধরনটি শক্তিশালী হওয়ায় তা এখন বিশ^জুড়ে রাজত্ব করছে বলেও জানিয়েছেন এ দুই গবেষক। তাদের মতে, ১০ বছর আগে যে সার্স (সিওভি) ভাইরাস ৮ হাজার জনের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আটশ’র মতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সেটিরও ফুসফুসের কোষে প্রবেশে সক্ষমতা ছিল। তবে ‘এ২এ’-র মতো অতটা নয়।

ভারতীয় এ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, মাত্র চার মাসে ভাইরাসটি তার আদি ‘ও’ ধরন থেকে ‘এ২’, ‘এ২এ’, ‘এ৩’, ‘বি’, ‘বি১’-র মতো ১০টি রূপ ধারণ করেছে। গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৫৫টি দেশের ৩ হাজার ৬৩৬ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে ভাইরাস নমুনার আরএনএ সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে আদিটিসহ মোট ১১টি ধরন পেয়েছে তারা। সংগৃহীত মোট নমুনার আরএনএ বিশ্লেষণ করে ১ হাজার ৮৪৮টি (৫০ শতাংশ) সংক্রমণের ক্ষেত্রে ‘এ২এ’ পেয়েছেন তারা। ‘ও’ পাওয়া গেছে ৫৮২ নমুনায়, ‘বি১’ পাওয়া গেছে ৫০৫টি নমুনায়। এ গবেষণায় ভারতের ৩৫টি নমুনার ১৬টিতেই ‘এ২এ’ পাওয়া গেছে। ‘এ৩’ পাওয়া গেছে ১৩টিতে, ‘ও’ পাওয়া গেছে ৫টিতে। এনআইবিজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ও গবেষক দলের সদস্য পার্থ জানিয়েছেন, চীনে সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘ও’। ২৪ জানুয়ারি প্রথম ‘এ২এ’ এর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আর মার্চের শেষনাগাদ এটি বিশ^জুড়ে অন্য ধরনগুলোকে টপকে যায়। তিনি বলেছেন, ‘এটি (এ২এ) সার্স-সিওভি২ এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। ’অপর সদস্য নিধান জানান, চীনের পর ইরানে ভাইরাসটির ধরন ‘এ৩, ’-এ বদলে যায়। এরপর ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রে ‘এ২এ’-ই আঘাত হেনেছে।

ভারতেও ভাইরাসটি এসেছে সেখান থেকেই। তিনি আরও জানান, ‘এ২এ’ এবং ‘ও’ দুটোই শক্তিশালী। তবে ‘এ২এ’ বেশি শক্তি ধারণ করে। তবে পার্থ বলেন, বেঁচে থাকতে হলে ভাইরাসকে অবশ্যই কোনো না কোনো প্রাণীর শরীরে সংক্রমিত হতে হবে। রূপ পরিবর্তনের (মিউটেশন) ফলে সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কমে যায়। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। পার্থ আরও বলেছেন, ‘তবে কোনো কোনো মিউটেশনে ভাইরাস আরও দক্ষ হয়ে ওঠে এবং বেশি মানুষের মধ্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের মিউটেশন সংক্রমণের গতি বাড়িয়ে কখনো কখনও আদি ধরনকেও ছাড়িয়ে যায়। সার্স-সিওভি২ এর ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটেছে। ’ বায়ুবাহিত করোনার উপস্থিতি মিলল উহানের হাসপাতালে: এদিকে চীনের উহান শহরের দুটি হাসপাতালের বাতাসে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। হাসপাতালগুলো থেকে নেয়া বাতাসের নমুনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্যের (আরএনএ) উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছেন তারা। গত সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ চীনা বিজ্ঞানীদের এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। উহানে এ গবেষণায় চীনা বিজ্ঞানীরা আবাসিক ভবন ও সুপারমার্কেটের বাতাসে ভাইরাসের উপস্থিতি পাননি। তবে দুই হাসপাতালের একটির বাইরে ভিড়ঠাসা এলাকা ও কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বাতাসেও সামান্য মাত্রার ভাইরাস পাওয়া গেছে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়ে এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাতাসের ওই কণাগুলোর বেশিরভাগেরই ব্যাস এক ইঞ্চির দশ হাজার ভাগের এক ভাগেরও কম। এর আগে বিভিন্ন পরীক্ষাগারে করা গবেষণায় করোনাভাইরাস বাতাসে থাকতে পারে বলে প্রমাণ মিললেও চীনা বিজ্ঞানীরা নমুনা নিয়েছেন বাস্তব পরিস্থিতি থেকে। প্রকাশিত নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা যে নমুনা সংগ্রহ করেছেন সেখানে থাকা ভাইরাস সংক্রামক কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে ক্ষুদ্র এ তরল কণাগুলো সহজেই ব্যক্তির নিঃশ্বাসের সঙ্গে ও কথা বলার সময় নির্গত হতে পারে। কণাগুলো ভাসতে পারে ও শ্বাসের মাধ্যমে অন্য জনের শরীরে ঢুকেও পড়তে পারে। নেচারের এ গবেষণা নিবন্ধের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক অ্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক লিনসে মার বলেছেন, ‘তরল কণাগুলো কমপক্ষে দুই ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। এ প্রতিবেদনে জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, ভাইরাসটির বায়ুর মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে।’

নতুন করোনাভাইরাসটি যে এরোসল নামে পরিচিত অতি ক্ষুদ্র তরল কণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে- এমন প্রমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মার ও অন্য আরও অনেক বিজ্ঞানী। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনও পর্যন্ত বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনাকে আমলে নেয়নি। তারা বলছে, বাতাসে বেশিক্ষণ ভাসতে পারে না এমন বড় বড় তরল কণার মাধ্যমেই ভাইরাসটি ছড়াতে পারে অথবা সংক্রমিত কোনো কিছু ছোঁয়ার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এদিকে চীনা বিজ্ঞানীদের নতুন এ গবেষণাতেও এরোসলে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটানোর মতো সক্ষমতা আছে কি না, নাকি তাদের পরীক্ষায় ভাইরাসের নির্বিষ খ-াংশ পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজ এর প্রধান হার্ভি ভি. ফাইনবার্গ ‘ভাইরাসের প্রতিলিপির জন্য অনুপস্থিত খ-াংশটি গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে প্রশ্ন রাখেন, ‘বাতাস থেকে কী আপনি এই ভাইরাসটি উৎপাদন করতে পারবেন?’ অপরদিকে মার বলেছেন, ‘ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য বেশ ভালো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। ’করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে-এমন ধারণার পক্ষে চীনা বিজ্ঞানীদের এ তথ্যকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।