• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

সঙ্ঘ পরিবারের দাবি

হিন্দু জাতীয়তাবাদী তাসে এবার ভোট এসেছে

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮

image

ভারতের ৯৫ শতাংশ এলাকা (দেশটির দক্ষিণপন্থি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-এর অঙ্গ সংগঠন) সঙ্ঘ পরিবারের ছায়া তলে চলে এসেছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের অন্যতম শীর্ষ নেতা কৃষ্ণ গোপাল। গত রোববার নাগপুরে সঙ্ঘ পরিবারের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন দাবি করেন তিনি। সভায় এ দাবির প্রেক্ষিতে যুক্তি তুলে ধরে একটি প্রতিবেদনও পেশ করেছে আরএসএস । যেখানে ত্রিপুরার সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনী লড়াই শুরু হওয়ার আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে আয়োজিত হিন্দু সম্মেলনের অনুকূল প্রভাব পড়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এদিকে কৃষ্ণ গোপালের করা চাঞ্চল্যকর এ দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কৃষ্ণ গোপালের এ দাবির প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) অন্দরমহলে প্রশ্ন ওঠেছে, তবে কি এবার আকাশবাণীকেও (অল ইন্ডিয়া রেডিও) (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ) ছাড়িয়ে গেল আরএসএস পরিবার? কারণ সরকারি পরিসংখ্যানে জানা যায়, আকাশবাণী দেশের ৯২ শতাংশ স্থানে পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যেই। যেখানে আকাশবাণীর মতো বহুল প্রচারিত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত দেশের সবচেয়ে পুরনো গণমাধ্যম রেডিও পরিষেবা নিয়ে পৌঁছতে পারছে না, দেশের সেই সব দুর্গম স্থানে কি করে পৌঁছে গেল সঙ্ঘ পরিবার? নাগপুরে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় কৃষ্ণ গোপাল বলেন, ‘নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকার কয়েকটি অংশ ছাড়া আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে গিয়েছি। এ মুহূর্তে দেশের ৯৫ শতাংশ স্থানে রয়েছে আরএসএস সংগঠন।’ এমন মন্তব্য করেই না থেমে গিয়ে তিনি আরও কৃষ্ণ গোপাল দাবি করেন, কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড এবং মিজোরামের কিছু অংশ ছাড়া দেশের বাকি সব অঞ্চলে তাদের সংগঠনের শাখা মজুদ রয়েছে বলে পরিসংখ্যানও পেশ করেছেন। তার মতে, ‘সারাদেশে এ মুহূর্তে সঙ্ঘের ৫৮ হাজার ৯শ’ ৭৬টি শাখা রয়েছে।’ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটি যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তাতে ফলে লাভ হয়েছে বিজেপির। তারা এমন রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে, যেখানে এক সময় দলের শাখা সংগঠন বলতে কিছুই ছিল না, ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে এমন দাবি করেছেন কৃষ্ণ গোপাল। তার অভিমত নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও ত্রিপুরার ক্ষেত্রে বিজেপির সাফল্যের জন্য সঙ্ঘ পরিবারের কৃতিত্বকে তুলে ধরেছেন সঙ্ঘের মহাসচিব ভাইয়াজি যোশী। তার দাবি, পূর্ব ভারত বিশেষত ত্রিপুরার মত সীমান্তবর্তী রাজ্যে গত বছর সঙ্ঘ পরিবার যেভাবে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করেছে, তার সাফল্য দেখা দিয়েছে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ।

অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় পেশ করা অরএসএসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘সম্মেলনের সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল যত বেশি সম্ভব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং তাদের ক্ষোভ বিক্ষোভের কথা শুনে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে তুলে ধরার ভাবনা। এ কাজে নেমে রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চলে ২ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছিল।’ এ প্রচেষ্টার ফলে বাস্তবে প্রতি তিনটি ঘরের একটিতে গেরুয়া পতাকা উড়তে দেখা গেছে বলে নিজেদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে সংঘ পরিবার। এর পাশাপাশি আগামী ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কীভাবে এগোনো উচিত, সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে নাগপুরের এ সম্মেলনে। তবে দলীয় সূত্র মতে, ত্রিপুরার মতো যে সব রাজ্যে আরএসএস এবং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি তেমন ভালো ছিল না বা এখনও নেই, সে সব রাজ্যে নিরবিচ্ছন্ন জনসংযোগের ওপরে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন ভাইয়াজি যোশী, কৃষ্ণ গোপালসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। এদিকে, অযোধ্যাতেই রাম মন্দির তৈরি হবে বলে গত রোববার আরও একবার মন্তব্য করেছে আরএসএস। এ প্রসঙ্গে সঙ্ঘের মহাসচিব ভাইয়াজি যোশীর অভিমত, ‘অযোধ্যাতে রাম মন্দির তৈরি নিশ্চিত হয়ে রয়েছে বহু দিন ধরেই। ওখানে রাম মন্দির ছাড়া অন্য কোন কিছুর গঠন সম্ভব নয়। আদালতের রায়ের পরে রাম মন্দির নির্মাণ কার্য শুরু করা হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সর্বসম্মতির মাধ্যমে রাম মন্দির তৈরির কাজ সহজ নয়, তবে তা সত্ত্বেও যারা এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের স্বাগত জানায় সঙ্ঘ পরিবার।