• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ মহররম ১৪৪২, ০৫ আশ্বিন ১৪২৭

হংকংয়ে আইনের শাসন ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

৫ মাসেরও বেশি সময়ের আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ে আইনের শাসনকে ‘পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে’ ঠেলে দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির পুলিশ। সোমবার হংকংয়ে নতুন করে পুলিশের গুলি ও সহিংসতার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা এল।

গত অক্টোবরের পর সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশ তৃতীয়বারের মতো কাউকে সরাসরি গুলি করেছে। অপরদিকে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বেইজিংপন্থি এক সমর্থকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরদিন মঙ্গলবারও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকাসহ দুটো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এদিন ‘লাঞ্চ ব্রেকের’ সময় প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী হঠাৎ করেই রাস্তায় নেমে নগরীর সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর নিচের সড়ক অবরোধ করে। ওই বিক্ষোভকারীদের বেশিভাগই কর্মস্থলের পোশাকে এবং মুখোশ পরে ছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এক ডজনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হওয়ায় পরিবেশ শান্ত হলে পুলিশের মুখপাত্র কং উইং চেউং এক সংবাদ সম্মেলনে গত দু’দিনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সমাজকে পুরোপুরি পতনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’ ‘মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা উন্মাদের মতো মেট্রোরেলের লাইনে সাইকেল, ধাতব টুকরা এবং অন্য আবর্জনা ফেলছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এ কর্মকাণ্ডে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের আশা নিয়ে বেপরোয়াভাবে সহিংস হয়ে উঠছে। তারা হংকংয়ে আইনের শাসনকে পুরোপুরি পতনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।’ সোমবার বেইজিংপন্থি অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে মুখপাত্র চেউং আরো বলেন, কে বা কারা তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের পক্ষও সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা যে কারও কাছ থেকেই যে হুমকির মুখে পড়ছে তাই নয়, বরং এক দল মানুষ সংগঠিতভাবে পরিকল্পনা করে আমাদের বন্দুক চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে- এমনটিই আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ ‘এরকম পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি আমাদের পুলিশ বাহিনী নিজেদের পাশাপাশি তাদের আশোপাশের মানুষজনের সুরক্ষায় গাইডলাইন অনুযায়ীই কাজ করছে।’

প্রসঙ্গত, চীনের মূল ভূখণ্ডে বন্দী প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি প্রস্তাবিত বিল বাতিলের দাবিতে গত জুন থেকে হংকংয়ে এ আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা বিক্ষোভের মুখে ওই বিল প্রথমে ‘মৃত’ এবং পরে বাতিল ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আরও অনেক দাবি নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভে বিপর্যস্ত হংকং। বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদিকে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও লন্ডনকে সতর্ক করেছে বেইজিং । চীন জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও লন্ডনকে হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এক বিবৃতিতে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, আমেরিকা ও ব্রিটেন যদি সহিংসতার বিরোধী হয়ে থাকে তাহলে তারা যেন হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের অমানবিক সহিংস আচরণের নিন্দা জানায়। ওয়াশিংটন ও লন্ডন ধৈর্য অবলম্বনের সমর্থক বলে যে দাবি করছে তাকে স্ববিরোধী বলেও উল্লেখ করেন শুয়াং। হংকংয়ের এক নাগরিকের গায়ে সম্প্রতি সেখানকার বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই ঘটনাকে অমানবিক উল্লেখ করে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন যদি হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের নিন্দা না জানায় তাহলে ধরে নেয়া হবে যে, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওই দুই দেশের গোপন কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে।