• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

ইয়েমেন শান্তি আলোচনা

সুইডেনে বসছে সরকার ও হাউথি বিদ্রোহীরা

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জাতিসংঘ আয়োজিত শান্তি আলোচনা সুইডেনে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে ইতোমধ্যেই সুইডেনে পৌঁছেছে ইয়েমেন সরকার ও দেশটির শিয়াপন্থি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ শান্তি সম্মেলনে ইয়েমেনি সরকার ও হাউথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করবে জাতিসংঘের বিশেষ দল। ২০১৬ সালের পর এমন আলোচনা এবারই প্রথম। এর আগে জেনেভায় শান্তি আলোচনা হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। জাতিসংঘ আশা করছে এবারের আলোচনায় এমন একটি কাঠামো বেরিয়ে আসবে যেখানে ইয়েমেনের জন্য ভবিষ্যত রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা সহজ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ আলোচনায় বন্দরনগরী হুদাইদায়ে কয়েকমাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ হবে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, এক সপ্তাহ ধরে এ আলোচনা চলবে। এর আগে হাউথিদের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয় দেশটির সরকার। হাউথি বিদ্রোহীদের বন্দী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কাদের আল মুরতাজা জানান, ‘জাতিসংঘের ইয়েমেনি দূত মার্টিন গ্রিফিত আমাদের জানিয়েছেন, সৌদি জোট ও ইয়েমেন সরকার বন্দী বিনিময়ে সম্মত হয়েছেন।

গত তিন বছর আগে (২০১৫ সাল) ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দু রাব্বু মানসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত দেশটির হাউথি বিদ্রোহীরা। পরে সৌদির রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হাউথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে হাউথিরা যুদ্ধ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের মার্চে হাউথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের এ অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। এদিকে এ যুদ্ধে পুষ্টিহীনতার শিকার হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন। এ নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন। সেভ দ্য চিলড্রেন ইয়েমেনে পুষ্টিহীনতায় নিহতদের নিয়ে জাতিসংঘের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ বছরের কমবয়সী ৮৪ হাজার ৭০০ শিশুর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অপরদিকে ইয়েমেনের এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে গত মাসে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘ। তবে দেশটির অর্ধেক ভূখ-ের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে, সেখানে কোন রকম চিকিৎসা সুবিধা কাজ করছে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা অবরোধের মুখে থাকায় অনেক মানুষকে অভাবে অনাহারে দিন পার করতে হচ্ছে। এ রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ এ যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা চালাচ্ছে।