• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭ ১৮ রজব ১৪৪২

সীমান্ত সংঘাতের মধ্যেও ভারত-চীন শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

পারস্পরিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেও চীন ২০২০ সালে ভারতের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। গত বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাতের পরও দুদেশের বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতিতেই চলেছে। ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে দ্বিমুখী বাণিজ্য ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পর্বে ৭৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যদিও এটি পূর্ববর্তী বছরের ৮৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। রয়টার্স

তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ অর্থবছরে দুদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্থানচ্যুত করে চীনের পক্ষে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত বিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শতাধিক চীনা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করেছেন। প্রতিবেশীর কাছ থেকে বিনিয়োগের আবেদনগুলো অনুমোদনের গতি কমিয়ে দিয়েছেন এবং স্বনির্ভরতার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও, চীনের তৈরি ভারি যন্ত্রপাতি, টেলিকম সরঞ্জাম এবং ঘরে ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর ভারতের অতিনির্ভরতার ফলে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ব্যবধান প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এরই মধ্যে ভারত সরকারের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে জানিয়েছে, উৎপাদন ক্ষেত্রে লগ্নি বাড়াতে প্রায় ৪৫টি চীনা সংস্থাকে ছাড়পত্র দিতে চলেছে সরকার। এ সংস্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, গ্রেট ওয়াল মোটর, এসএআইসি মোটর করপোরেশনের মতো সংস্থা।

এসব লগ্নির প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। লাদাখে ভারতে-চীন সংঘাতের কারণে চীনা লগ্নি, চীনা পণ্য আমদানি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে নয়াদিল্লি। এর ফলে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ১৫০টি প্রকল্পের প্রস্তাব আটকে পড়ে।

সম্প্রতি সীমান্ত সংঘাত অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। কিছুটা হলেও সেই সম্পর্কের বরফ গলছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কিছু অংশ থেকে সেনা সরিয়েছে দুদেশই। তারই প্রভাব পড়েছে দুদেশের বাণিজ্যেও। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা গুলো জানিয়েছে, লগ্নিকারী সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য তালিকায় গ্রেট ওয়াল মোটর এবং এসএআইসি মোটর করপোরেশনের নাম রয়েছে। গ্রেট ওয়াল মোটরের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে ভারতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ভারতের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়িও আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এ বছরের মাঝামাঝি থেকেই ভারতে গাড়ি বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সরকারি সমস্ত নীতি, আইন মেনেই শুরু করা হবে।

এসএআইসি মোটর করপোরেশন ২০১৯ থেকে তাদের ব্রিটিশ ব্র্যান্ড এমজি মোটরের নামে ভারতে ইতিমধ্যেই ৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ব্যবসা বাড়াতে আরও ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের জন্য ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।