• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

সিরিয়া নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ দ্বন্দ্ব!

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

image

গত শনিবার মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ হামলার পর সিরিয়া সংক্রান্ত নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিকে এ হামলার তীব্র সমালোচনা করে রাশিয়া, সিরিয়া ও ইরান পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করেছে।

সিরিয়ায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলার পর রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এদিন ভোররাতে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের তিনটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সিরিয়ার দামেস্ক ও হোমসে। এ হামলার পরদিন রোববার শেষ বেলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউস সিরিয়া নিয়ে মার্কিন নীতিতে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি বলে ঘোষণা দেয়। এসময় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা স্যান্ডার্স বলেছেন, শনিবারের হামলা সত্ত্বেও আগের নীতি অনুযায়ীই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্যদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। তবে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট সংগঠনকে পুরোপুরি দমন করে তাদের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা দূর করতে চায় ওয়াশিংটন। এছাড়াও আঞ্চলিক সহযোগী দেশগুলো ওই অঞ্চলে নিরাপত্তার খাতিরে আরও সামরিক ও আর্থিক দায়দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিক বলে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে হোয়াইট হাউসের এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপের পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মার্কিন সেনাদের আপাতত ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য’ সিরিয়ায় অবস্থান করাতে তিনি ট্রাম্পকে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর পূর্ণ করায় দেশটির টেলিভিশনে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ ওই সাক্ষাৎকারে প্রতিবেদককে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি যে, সিরিয়ায় মার্কিন সেনা দীর্ঘ সময়ের জন্য মোতায়েন রাখার গুরুত্ব ট্রাম্পকে বোঝাতে পেরেছেন তিনি। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় শনিবারের হামলার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে জোর করে রাজি করিয়েছি আমি। সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার একটি বিষয়েই জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া সংকট সংক্রান্ত বিষয় মীমাংসায় আমরা তিন দেশ- ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একযোগে নেতৃত্ব দিয়েছি। তিনি আরও জানান, এ সংকটের সার্বিক সমাধানের লক্ষ্যে ফ্রান্স জাতিসংঘে এক প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে। গতকালই ( সোমবার) এর কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশের সঙ্গেও সিরিয়ার বিষয়ে সংলাপ চালানো হবে জানান ম্যাক্রোঁ। শনিবারের হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাশার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মোটেই কোন যুদ্ধ শুরু হয়নি। নিরীহ মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র হামলার শাস্তি দিতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৩ সালে জাতিসংঘের এক প্রস্তাব অনুযায়ী, সিরিয়া তার রাসায়নিক অস্ত্রভা-ার ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেও কার্যত তা মানেনি। সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সম্মতি ছাড়াও সিরিয়ার ওপর হামলা বৈধ বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি রাশিয়ার ওপর আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আভাস দিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব রুশ কোম্পানি বাশার প্রশাসনকে রাসায়নিক হামলার সাজ-সরঞ্জাম সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে হুশিয়ার করেন তিনি। গতকালই এসব নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার কথা জানান নিক্কি।

সিরিয়ার সরকার ও রাশিয়া এখনও ৭ এপ্রিল রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে। তারা শনিবারের হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, দুই দেশ শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষেও লড়াই করে চলেছে।

তবে ইউরোপে সিরিয়া নীতি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গতকাল ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিভাজন কাটিয়ে ঐক্য আনার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল গত শনিবারের হামলার প্রতি সমর্থন জানালেও সার্বিকভাবে ইইউ দেশগুলো ইউরোপের দোরগোড়ায় উত্তেজনা সীমিত রাখার পক্ষে। এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের আরও অবনতি নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে তাদের মধ্যে। এএফপি।