• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সিরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

সিরিয়ার মানবিজ থেকে মার্কিন সামরিক বহরে করে সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহারের এই ফাইল ছবিটি ৩০ ডিসেম্বরের -ডেইলি মেইল

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যেই কিছু সরঞ্জাম সরানো শুরু হয়েছে।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় আইএসকে পরাজিত করেছি। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে শুধু আইএসকে হটানোর জন্যই তাদের সেখানে (সিরিয়া) রাখা হয়েছিল। সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘নিরাপত্তার স্বার্থেই’ এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিলো যে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জাহাজ, বিমান ও স্থলভাগের সামরিক সরঞ্জাম চিহ্নিত করেছে যেগুলো ব্যবহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অনেকে। সবচেয়ে আলোচিত নাম পদত্যাগী প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। আফগানিস্তান ও সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতার সূত্রে তিনি পদত্যাগ করেন।

‘সিরিয়া থেকে ইরানি

সেনাকে বিতাড়িত করা হবে’

এদিকে সিরিয়া থেকে সব ইরানি সেনাকে বিতাড়নের অঙ্গীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। গত বৃহস্পতিবার মিসরের রাজধানী কায়রো সফরকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা পিছু ধাওয়া করে সিরিয়া থেকে ‘প্রতিটি ইরানি সেনাকে’ হটিয়ে দেবে। একটি সেনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না। বৃহস্পতিবার পম্পেও আরও বলেন, সিরিয়ায় ইরান এবং তাদের প্রক্সিদাতারা বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য কোন সাহায্য দেবে না। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পন্থায় এবং মিত্রদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরিয়া থেকে শেষ ইরানি সেনাটিকেও তাড়িয়ে দেবে এবং দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা জনগণের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার তিন সপ্তাহ পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ দিনের সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রদেশই উদ্বিগ্ন হয়েছে। ওয়াশিংটনও তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাই সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ দূর করে তাদের নতুন করে আশ্বস্ত করতেই মধ্যপ্রাচ্যে পম্পেওর এ সফর। ট্রাম্প প্রশাসন যে অঞ্চলটি থেকে সরে যাচ্ছে না সে আশ্বাসই দিচ্ছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য পম্পেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার প্রশাসন ইসলামপন্থি জঙ্গিসংগঠন আইএসকে (ইসলামিক স্টেটকে) ঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি বলেই অভিমত তার।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানও। তারা সেখানে অস্ত্র সরবরাহ করাসহ সামরিক উপদেষ্টা এবং লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠিয়েও সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৎপরতাকে সন্দেহের চোখেই দেখে। ইরান ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই ঘোর শত্রু দেশ ইসরায়েল এবং সৌদি আরবেরও মিত্র। এ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার পম্পেও বলেন, এ অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বে ইরানের অনিষ্টকর প্রভাব এবং কর্মকান্ড থামাতে আমরা আমাদের অভিযানে মোটেও ঢিলেমি করব না। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং এ নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হতে থাকবে বলেও জানিয়েছেন পম্পেও।