• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

সুদান সংকট

সাবেক সরকারের সদস্যদের গ্রেফতার করছে সামরিক পরিষদ

সামরিক বাহিনীর কাছে দাবির তালিকা দিলেন সুদানের বিক্ষোভকারীরা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

বিক্ষোভকারীদের বাধা না দেয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে সুদানের সাবেক সরকারের সদস্যদের গ্রেফতার শুরু করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদ। এ পরিষদের এক মুখপাত্র পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের পছন্দ বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার করেন বলে জানায় বিবিসি।

চার মাস ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ১১ এপ্রিল দেশটির তিন দশকের স্বৈরশাসক ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গ্রেফতার করে সুদানের সামরিক বাহিনী। কিন্তু বেসামরিক শাসকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছেড়ে যাবেন না বলে জানান।

রাজধানী খার্তুমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক পরিষদের মুখপাত্র মেজর জেনারেল শামস আদদিন শান্ত জানান, বিরোধী দলগুলো যে বেসামরিক সরকারের বিষয়ে সম্মত হবে, তাদের কাছেই ‘সমর্পণ’-এর জন্য প্রস্তুত সামরিক পরিষদ। বিরোধী দল ও প্রতিবাদকারী দলগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করব না। প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, এটি তারাই ঠিক করবেন।’ সেনাবাহিনী অবস্থান ধর্মঘটরত বিক্ষোভকারীদের সরাতে বল প্রয়োগ করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অননুমোদিতভাবে রাস্তা বন্ধ করে না রেখে ‘স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে’ তাদের প্রতি আহ্বান জানান এবং ‘অস্ত্র তুলে নেয়া সহ্য করা হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে সামরিক পরিষদ। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ

এক. সেনাবাহিনী এবং পুলিশের নতুন প্রধান প্রভাবশালী জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের (এনআইএসএস) নতুন প্রধান কর্তৃক সাবেক ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কমিটি গঠন।

দুই. গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা ও সেন্সরশিপ তুলে নেয়া।

তিন. বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করার জন্য গ্রেফতাকৃত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মুক্তি।

চার. যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত সুদানি কূটনীতিকদের অপসারণ এবং কূটনৈতিক মিশনগুলোর পর্যালোচনা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বর থেকে সুদানজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, পরে তা সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের শেষ দিকে অভ্যুত্থানে শেষ হয় বশিরের ৩০ বছরের শাসন আমল। অভ্যুত্থানের নেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে আউফ তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত অন্তবর্তী দুই বছর সামরিক বাহিনী দেশ শাসন করবে বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু তার ঘোষণার তোয়াক্কা না করে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন এবং বেসামরিক সরকারের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানাতে থাকেন। এর পরের দিনই আউফ পদত্যাগ করেন। উত্তরসূরি হিসেবে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রহমান বুরহানের নাম ঘোষণা করেন।

গত শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বুরহান ‘বশির সরকারের শিকড় উপড়ে ফেলা’, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, রাতে কারফিউয়ের অবসান, রাজনৈতিক বন্দিদের তাৎক্ষণিক মুক্তি, সব প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেয়া, বিক্ষোভকারীদের যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা ও দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণে ঘোষণা দেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বেসামরিক সরকারের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে অটল থেকে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।