• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

ব্রেক্সিট চুক্তি

সমঝোতায় পৌঁছাল ইইউ-যুক্তরাজ্য

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

image

ইইউ শীর্ষ সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকের আগে ব্রেক্সিটের প্রশ্নে বোঝাপড়া সম্ভব হয়েছে বলে এক যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে দুই প্রতিপক্ষ ইইউ ও বরিস জনসনের সরকার। এর পরই নতুন এ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী জনসন। এদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) এ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।

গত কয়েক দিন ধরে প্রায় বিরতিহীন আলোচনার মধ্য দিয়ে ১৪ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পরিবর্তীত ব্রেক্সিট (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যেও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ) চুক্তির একটি খসড়া সম্পর্কে সমঝোতায় পৌঁছায় যুক্তরাজ্য- ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার নতুন একটি ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে উভয়পক্ষের সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েন ও অনিশ্চয়তার পর এ দিন সম্মত হওয়া নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির আইনি দিকগুলো নিয়ে এখন কাজ করছেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা ওই। তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইটে সেই ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দারুণ একটা সমঝোতায় পৌঁছেছি আমরা, পরিস্থিতির ওপরও নিয়ন্ত্রণ ফিরেছে।’

আগের তুলনায় এবার সতর্ক রয়েছে ইইউ। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’ও ইইউয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তি সই করেছিলেন। তা সত্ত্বেও তিন-তিনবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা অনুমোদন করতে ব্যর্থ হন তিনি। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টে সর্বশেষ এ সমঝোতাকে চূড়ান্ত করতে যথেষ্ট সমর্থন আদায়ে সমর্থ হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় । বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সরকারি জোটের শরিক দল ডিইউপি নতুন চুক্তির বিরোধিতা করছে। দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এই চুক্তি মেনে নিলে তবেই ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে কিছু সূত্র অনুযায়ী, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দূর হয়নি। ইউরোপীয় সরকারগুলোর পরিষদের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক আগেই জানিয়েছেন যে, নীতিগতভাবে চুক্তির মৌলিক ভিত্তি প্রস্তুত হয়ে গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা ব্রেক্সিট চুক্তি সই করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্ট চুক্তি অনুমোদন করলে চলতি মাসে আরেকটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে ইইউ নেতারা ব্রেক্সিট চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আগামী শনিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থনের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সব পক্ষ সম্মতি জানালেও আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট সময় আর নেই বলে ইইউ কর্মকর্তারা মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে শুধু প্রক্রিয়াগত কারণে এ তারিখ কিছুকাল পিছিয়ে দেয়া হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জাঙ্কারর রসিকতা করে বলেছেন, ‘সবাই ইংরিজি বোঝে, কিন্তু কেউ ইংল্যান্ডকে বোঝে না।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন আগেই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। ইইউয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ চুক্তির আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশকে যুক্তরাজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তিনি বিরোধী ও বিদ্রোহী পক্ষের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়বেন। তবে কিছু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, জনসন ইইউপন্থি ও কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিদের সাবধান করে দিতে পারেন। এই চুক্তি মেনে না নিলে তিনি প্রথম দলকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের ভয় দেখাতে পারেন। দ্বিতীয়ত এখনই চুক্তি মেনে না নিলে ব্রেক্সিটের স্বপ্ন পুরোপুরি বানচাল হয়ে যেতে পারে বলে দলকে বোঝাতে পারেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন নির্বাচন অথবা ব্রেক্সিটের প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজিত হলে ভোটাররা ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারেন। এদিকে ইইউ ও বরিস জনসনের সমাধান সূত্রের আওতায় উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশ কার্যত ইইউয়ের শুল্ক ইউনিয়নে থেকে যেতে পারে। তবে পণ্যের ওপর ভ্যাট কার্যকর করার বিষয়ে জটিলতা থেকে যায়। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের ভিন্ন ভ্যাটের হারের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা মধ্যস্থতাকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে চূড়ান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন দ্বিতীয় গণভোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।