• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১

শ্রীলঙ্কায় গ্রেফতার ২৩

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। গত মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। ইস্টার সানডের বোমা হামলার জেরে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার পর দ্বিতীয় রাতও কারফিউয়ে পার করেছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে দেশজুড়ে কারফিউ শুরু হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পুলিশ জানিয়েছে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য উসকানি দেয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন কোনও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হলেও দ্বিতীয় দিনের মতো রাত ৯টা থেকে দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রোববার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র শুরু বিতর্কের জের ধরে চিলাউ শহরে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এক দল খ্রিস্টান যুবকরা স্থানীয় তিনটি মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন দোকানে পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। তাদের মারধরের শিকার হন এক মুসলিম ব্যক্তি। এই ঘটনার পর প্রথমে শহরটিতে কারফিউ জারি করা হয়। তবে সহিংসতা দ্রুতই একের পর এক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সারা দেশেই কারফিউ জারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়। ভোরে সব জায়গা থেকে একই সময় কারফিউ তুলে নেয়া হলেও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে তা আরও বেশি সময় ধরে বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার ট্যাক্সিযোগে এসে একদল ব্যক্তি মুসলিম মালিকানাধীন দোকানে ভাঙচুর ও পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। দ্রুতই হামলাকারীর সংখ্যা ২০০ এবং পরে হাজার ছাড়িয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রধান মসজিদসহ ১৭টি মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৫০টি বাড়িতে হামলা চালায়। কারফিউ জারি থাকার মধ্যেই সোমবার রাতে ৪৫ বছর বয়সী ওই মুসলিম কাঠমিস্ত্রিকে তার নিজের কারখানায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ ডানপন্থি একটি বৌদ্ধ গোষ্ঠীর নেতাসহ ৬০ জনকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানী কলম্বোর উত্তরের প্রদেশটির কয়েকটি শহরে দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে।

তিন সপ্তাহ আগে খ্রিস্টানদের ইস্টার পরবের দিন কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে মুসলিম জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৫৩ জন নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটিজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ সবাইকে শান্ত থাকার ও ‘ঘৃণা প্রত্যাখ্যান করার’ আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দাঙ্গাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষগুলোকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘের কলম্বো দফতর। সিংহলী বৌদ্ধ প্রধান শ্রীলঙ্কার দুই কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম। গত বছরের মার্চেও শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলে মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে সাম্প্র দায়িক দাঙ্গা দেখা দিয়েছিল। ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছিল। শ্রীলঙ্কায় জাতিগত সংঘাতের ইতিহাস আছে। তাই কর্তৃপক্ষগুলো সাম্প্রতিক সহিংসতা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। দেশটির সংখ্যালঘু তামিল জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে রক্তাক্ত বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিল।